• গ্রেপ্তার হুমায়ুন কবীরের সভার তিন আয়োজক, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ জুন ২০২৬
  • মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ করল পুলিশ। নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত সভার তিন আয়োজককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম গোলাম মোস্তাফা, মোহাম্মদ আমিনুল হক এবং আনিসুর রহমান। সোমবার রাতে পৃথকভাবে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও শক্তিপুরে সভা করেছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেই সভায় তাঁর কিছু বক্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়।

    এই বিতর্কের জল গড়ায় বিধানসভার অধিবেশনেও। সোমবার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘সভার আয়োজনকদেরর বিরুদ্ধেই প্রথমে পুলিশি পদক্ষেপ করা হবে। হুমায়ুনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যারা ওঁকে ডেকেছিল, তাদের আগে তুলব। তার পর আপনার কাছে যাব। যা করার করব। আমি আশ্বস্ত করছি। ধরে রাখুন, এটা ওঁর শেষ বক্তব্য। এ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।‘ সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।‘ হুমায়ুনকে সংযত হওয়ার পরামর্শও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই তিন আয়োজককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রেজিনগর থানার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন গোলাম মোস্তাফা ও মোহাম্মদ আমিনুল হক। গোলাম এজেইউপির কাশীপুর-২ অঞ্চলের সভাপতি। অন্যদিকে, শক্তিপুর থানার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আনিসুর রহমান, যিনি এজেইউপির বেলডাঙা-২ ব্লকের আহ্বায়ক।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আমিনুলের বাড়ি রেজিনগরের লোকনাথপুর গ্রামে। গোলাম কাশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই সভার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। সেই সভা থেকেই হুমায়ুন কবীর উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।

    সোমবার বিধানসভায় রেজিনগরের সভায় হুমায়ুনের বক্তব্যের একটি অংশ পড়ে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি যে দিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, এমন স্যাঁটা ভাঙা মার শুরু করব, যে ময়দানে আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০-৪৮০০ জনের বেশি ধরে না। লাফিয়ে লাফিয়ে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব, স্যাঁটাভাঙা মারব।‘ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ওই ভাষণ ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ভাষায় প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, ‘তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কোনও মন্তব্য করেননি। হুমায়ুন বলেন, যাঁরা নবাগত বিজেপি, বিশেষকরে ৪ মে-র পর বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের একাংশ এলাকায় অশান্তি ও অত্যাচার করেছেন। আমি সেই বিষয়েই বলেছি। এর জন্য যদি আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়,তাতেও আপত্তি নেই। আমি এই লোকগুলোর বিরুদ্ধেই লড়াই করে নতুন দল গড়েছি এবং নির্বাচনে জিতেছি।‘

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)