• অঙ্ক শিখতে থলি হাতে বাজারে পড়ুয়ারা, ধূপগুড়ির বিদ্যালয়ে অভিনব উদ্যোগ
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • রনি চৌধুরী, ধূপগুড়ি

    অঙ্কটা কী কঠিন!

    এই কঠিন বিষয়টি সরল করতে অভিনব পন্থা নিল এক স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুধু ব্ল্যাকবোর্ড আর খাতায় নয়, অঙ্ক এবার নেমে এল বাজারের থলিতে। পড়ুয়াদের গণিত–ভীতি দূর করতে এক নতুন ধরনের উদ্যোগ নিল ধূপগুড়ির বেসরকারি বিদ্যালয় শ্রী শ্রী নিত্যকমলানন্দ সারদা শিশু মন্দির। বিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ২৪ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে ৫০ টাকা দিয়ে স্থানীয় সবজি বাজারে পাঠানো হলো। তাদের বলে দেওয়া হলো, এই টাকার মধ্যে পছন্দমতো আনাজ কিনতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই, হিসেব নিয়ে পড়ুয়াদের সড়গড় করা।

    সোমবার থলি হাতে বাজারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরতে দেখা যায় পড়ুয়াদের। পিছনে অবশ্য শিক্ষকরা ছিলেন। কোন সবজির দাম কত, ১০০, ২৫০ বা ৫০০ গ্রামের মূল্য কত হবে, দোকানদারকে ৫০ টাকা দিলে কত ফেরত পাওয়া যাবে , সেই হিসেব করতে বলা হয় ছাত্রছাত্রীদের। অভিনব এই ‘টাস্ক’ পেয়ে উৎসাহের সঙ্গে বাজার করতে নেমে পড়ে পড়ুয়ারা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর কাছেই গণিত একটি ভয়ের বিষয়। তাই চার দেওয়ালের শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অঙ্ক শেখানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু অঙ্কের দক্ষতাই নয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং অর্থ ব্যবহারের বাস্তব জ্ঞানও বাড়বে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আরধ্যা বসাক বলেন,‘নিজের হাতে বাজার করে বুঝতে পারলাম অঙ্ক শুধু বইয়ের মধ্যে নয়, প্রতিদিনের জীবনেও কতটা দরকার। খুব ভালো লেগেছে। এবার থেকে বাজারে গেলে আমি নিজেই হিসেব করতে পারব।’ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মহম্মদ ফিরোজ রহমান বলেন, ‘৫০ টাকার মধ্যে বাজার করতে গিয়ে বুঝলাম কোথায় কী ভাবে হিসেব করতে হয়। আজকের পরে অঙ্ক শেখা অনেক সহজ আর মজার হয়ে গেল। এমন ক্লাস আরও হলে ভালো লাগবে।’ অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এই শিক্ষাদান পদ্ধতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    স্কুলের শিক্ষক দীপ চৌধুরী বলেন, ‘কোনও স্কুলের তরফে এই ধরনের উদ্যোগ হয়তো এই প্রথম। আমরা ছাত্রছাত্রীদের হাতে ৫০ টাকা দিয়ে বাজারে পাঠিয়েছিলাম। যাতে তারা নিজের হাতে বাজার করে কত খরচ করল, কত বাঁচল সেই অঙ্কটা বুঝতে পারে। এর ফলে ওরা হাতেকলমে জ্ঞান অর্জন করতে পারল। বাস্তব জীবনে অঙ্কের অনেক প্রয়োজন।’

  • Link to this news (এই সময়)