• অবৈধ হোর্ডিং সরানো নিয়ে উত্তেজনা, কড়া অবস্থান কমিশনারের
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: অবৈধ হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে সোমবার সেবক রোডে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হোর্ডিং সরাতে গেলে পুর কমিশনার বীর বিক্রম রাইয়ের সঙ্গে বচসা বাধে ধীরজ গুপ্তা এক ব্যক্তির। প্রকাশ্যেই পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অবৈধ হোর্ডিং লাগানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কমিশনারের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। রুখে দাঁড়িয়ে কমিশনার বলেন, ‘একদম সরকারি কাজে বাধা দিয়ে দাদাগিরি করবেন না। আপনার যদি কিছু বলার থাকে অফিসে এসে বলবেন।’

    এ দিন সকালে সেবক রোডে একটি শোরুমের পাশে অবৈধ হোর্ডিং খুলতে যান পুরকর্মীরা। সেখানে পুর কমিশনার–সহ পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। হোর্ডিং খোলার চেষ্টা করতেই ধীরজ ওই এলাকায় এসে পুরসভার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। একাধিকবার তাঁকে কমিশনারের দিকে ধেয়ে যেতে দেখা যায়। ধীরজ বলতে থাকেন, ‘শহরে প্রচুর অবৈধ হোর্ডিং রয়েছে। পুরসভা নিজেদের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে অন্যান্য সংস্থার বরাদ্দ জায়গাতেও হোর্ডিং লাগিয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি চালিয়ে যেতে স্বজনপোষণ করা হয়েছে। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে ঘটনা সমালা দেয়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বীর বিক্রম বলেন, ‘কোনওরকম স্বজনপোষণের বিষয় নেই। অবৈধ হোর্ডিং সরানোর ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। সমস্ত অবৈধ হোর্ডিং আমরা সরিয়ে দেব।’

    শহরের অবৈধ হোর্ডিং নিয়ে মাস তিনেক আগে এই সময় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। সেই সময় পুরসভা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও কার্যত কিছুই হয়নি। কিন্তু রাজ্য সরকার বদল এবং পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসায় এই বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই, শহরের বিধান রোড, দার্জিলিং মোড়, তিনবাত্তি, এনজেপি, গান্ধী ময়দান–সহ ২১ জায়গায় অবৈধ হোর্ডিং চিহ্নিত করেছে পুরবোর্ড। শহর এবং শহরতলি মিলিয়ে প্রায় শতাধিক অবৈধ হোর্ডিং রয়েছে বলে খবর।

    পুরসভা, শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ), শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ, জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ হোর্ডিং থেকে অর্থ উপার্জন করে থাকে। হোর্ডিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট বিভিন্ন জায়গা এজেন্সিকে ভাড়া দেওয়া থাকে। এজেন্সি সেই বাবদ অর্থ দেয়। কিন্তু অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য সংস্থার বরাদ্দ জায়গাতে পুরসভার নামে এক শ্রেণির সিন্ডিকেটের লোকেরা হোর্ডিং লাগিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ধরনের কার্যকলাপের জন্য যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাগুলোর বিজ্ঞাপন বাবদ যে আয় কমেছে, সেটাও স্বীকার করে নিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।

    এ বিষয়ে প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব বলেন, ‘এর আগেই আমরা এই বিষয়ে সার্ভে শুরু করেছিলাম। বহু জায়গা থেকে অবৈধ হোর্ডিং সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা সমস্ত কাগজপত্র রেখে এসেছি বলেই যাঁরা এখন দায়িত্বে রয়েছেন তাঁরা দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারছেন।’ এই ঘটনায় পুরসভার কেউ যুক্ত কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা আমি কী করে বলব। যারা এখন দায়িত্বে রয়েছে তাদের বলব, দেশে আইন আদালত রয়েছে। সেই মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।’

  • Link to this news (এই সময়)