• সরলেন রেজিস্ট্রারও, আরও অচলাবস্থায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: একা রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর। দু'বছর ধরে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। এ বার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ভোগ কাটার বদলে উল্টে বেড়ে গেল।

    জুলাইয়ে ভর্তি। এর পরে সেমিস্টার। এ ছাড়াও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে এজেন্সিকে দিয়ে এই সমস্ত কাজ করান, তারাও এ বার সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ। কবে উপাচার্য নিয়োগ হবে, কবে নতুন রেজিস্ট্রার আসবেন, কবেই-বা আধিকারিকদের শূন্যপদ পূরণ হবে, এ নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন সবাই। বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, 'আমার কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই আবার নিজস্ব দপ্তরে শিক্ষকতার কাজে ফিরেছি। আমি এ নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে শিক্ষা দপ্তর বিশ্ববিদ্যায়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্ক অবগত।'

    বাম আমলের শেষ দিক থেকেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি বেহাল। তৎকালীন রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্যের মধ্যে বিরোধ শুরু হলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, গোটা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত দু'টি লবিতে ভাগ হয়ে যায়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেও দীর্ঘদিন সেই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে। তখন অচলাবস্থা কাটানোয় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষা দপ্তর বনাম রাজ্যপাল দ্বন্দ্ব। তার সঙ্গে যুক্ত হয় পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় এজেন্সি নিয়োগ নিয়ে জটিলতা।

    ২০২৪-এ রাজ্যপালের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত উপাচার্য বিদায় নেওয়ার আগে গুচ্ছ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ। যা নিয়ে পেরে নতুন করে বিরোধ দানা বাধে। একদল কর্মচারীকে আধিকারিকদের নানা শূন্যপদে নিয়োগ করা হয়। রেজিস্ট্রার পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরই পালা করে নিয়োগ শুরু হয়। অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে দফায় দফায় আন্দোলন চলে। এমনকী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের অফিসের ই-মেলের পাসওয়ার্ড পর্যন্ত লিক হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এখন বিশ্ববিদ্যালয়টি কার্যত অভিভাবকহীন। সবমিলিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। রাজ্যে নতুন সরকার আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ফিরবে কি? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

  • Link to this news (এই সময়)