এ বার হুমায়ুন কবীরকে জোড়া নোটিস পুলিশের। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) বিধায়ককে নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠাল শক্তিপুর ও রেজিনগর থানার পুলিশ। দুই সভায় বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে চাপ বাড়ছে নওদার এই বিধায়কের। ইতিমধ্যেই ওই দুই সভার তিন আয়োজককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বার হুমায়ুনকে থানায় তলব।
আগামী ৩ ও ৪ জুলাই যথাক্রমে শক্তিপুর ও রেজিনগর থানায় হাজির হওয়ার জন্য ওই দুই থানার পুলিশ নোটিস দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ AJUP চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে সমন নিয়ে হাজির হয় পুলিশ। যদিও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের শক্তিপুর থানার নারকেলবাড়ি ঘাট লাগোয়া এলাকার বাড়িতে হুমায়ুন নেই। তিনি কলকাতায় রয়েছেন।
গত ৭ জুন শক্তিপুরে একটি সভা ছিল AJUP-এর। সেখান থেকে শক্তিপুর থানার ওসিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন হুমায়ুন। অন্যদিকে ২৬ জুন রেজিনগরে দলের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের মুখে শোনা গিয়েছিল ‘স্যাটা ভাঙা মার’-এর হুঁশিয়ারি। বলেছিলেন, ‘যে দিন ময়দানে নেমে যাব, সে দিন আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে লাখ লাখ লোককে রাস্তায় নামাব, আর স্যাটা ভাঙা মার দেবো। কত দিন জেলে রাখতে পারেন, খাওয়াতে পারেন দেখব? আমার মাথা যে দিন গরম হয়ে যাবে, সে দিন আমি এসপিও বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীও বুঝব না।’ বিধায়কের দুই সভার বক্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়।
সোমবার বিধানসভায় এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানান, শক্তিপুর ও রেজিনগর থানায় দু’টি FIR হয়েছে। প্রশাসন সব রকম ব্যবস্থা নেবে। রাজ্য সরকার কোনও উস্কানিমূলক বক্তব্য সহ্য করবে না।
এর পরেই সোমবার রাতে শক্তিপুর, রেজিনগরে সভার তিন আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালেই নোটিস হাতে হুমায়ুনের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। শক্তিপুর থানার তরফে নোটিসে লেখা হয়েছে, ৩ জুলাই সকাল ১১টায় হাজির হতে হবে AJUP বিধায়ককে। রেজিনগর থানার তরফে দেওয়া নোটিসে বলা হয়েছে, ঠিক তার পরের দিন, ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় হাজির হতে হবে হুমায়ুনকে।