• হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের অগ্নিকাণ্ডে আহত কমপক্ষে ১৬, হাসপাতালে কান্নার রোল! কীভাবে লাগল আগুন?
    News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
  • হলদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত প্রায় ১৬ জন৷ মঙ্গলবার সকালেই হলদিয়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জীবপুর এলাকায় বিধ্বংসী আগুন লাগে৷ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাপথা পাইপ লাইনে লিক থেকে ওপরে থাকা বিদ্যুতের হাইটন লাইনে আগুন লাগে বলেই জানা গিয়েছে। বিধ্বংসী আগুন। দমকলের আটটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে। ঘটনায় ব্যাহত হয়েছে ট্রেন চলাচল৷ আহতদের চিকিৎসার তদারকি করেছেন বিধায়ক প্রদীপ বিজলি৷

    সূত্রের খবর, অগ্নিদগ্ধ বাসিন্দাদের উদ্ধার করে হলদিয়া মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে তমলুকের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহত একজনকে কলকাতা পাঠানো হচ্ছে। হলদিয়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে রেললাইন গিয়েছে। রেললাইনের ধারের বস্তিতে আগুন লাগায় হলদিয়া-পাঁশকুড়া লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রীন করিডর করে আহত যাদের কলকাতা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে৷ আটজন আহতকে কলকাতার বালিগঞ্জের মেডিভিউ নাম হবে বলছে, নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    হলদিয়ার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গ জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানালেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। কি কারনে আগুন সবকিছু খতিয়ে দেখতে তদন্তও করা হচ্ছে।’’ তমলুকের তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজে গিয়ে পেট্রোকেমিক্যালসের অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসার তদারকি করলেন হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি। আহতদের দেখভাল তদারকি এবং তাদের সাহায্য করতে উদ্যোগ নিলেন তিনি।

    এই ঘটনায় সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে আহতদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, “হলদিয়া কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাটি আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমরা আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানাচ্ছি। বিপদের এই মুহূর্তে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।”

    হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের পক্ষ থেকে আরও জানান হয়েছে, “প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, প্ল্যান্টের কাছাকাছি একটি অননুমোদিত ন্যাপথা চুরির স্থানের আশেপাশে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, ন্যাপথা একটি প্রচণ্ড দাহ্য ও বিপজ্জনক হাইড্রোকার্বন। সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে আমরা বরাবরই এই ধরণের পেট্রোলিয়াম পণ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা নাড়াচাড়া না করার জন্য অনুরোধ ও সতর্ক করে আসছি। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছি। তদন্ত প্রক্রিয়াটি এখনও চলছে, তাই এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা বা কাউকে দায়ী করা উচিত হবে না। আমরা প্রকৃত সত্যটি জানার জন্য অপেক্ষা করছি।” এখানেই শেষ নয়, এর পাশাপাশি বারবার তাদের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ‘সবাই নিরাপদে থাকুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
  • Link to this news (News18 বাংলা)