• বিতর্কিত মন্তব্যের জের! পুলিশের জালে হুমায়ুন কবীর ঘনিষ্ঠ ৩ এজেইউপি নেতা
    News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
  • হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই তৎপর পুলিশ। রাজনৈতিক জনসভা থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ইতিমধ্যে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় দু’টি সুয়োমোটো  মামলা দায়ের করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির দিতেই পরই তৎপর হল পুলিশ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির তিন নেতাকে গ্রেফতার করল রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ।

    হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে পুলিশের নোটিস। দুটি পৃথক মামলায় নোটিস দিতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের শক্তিপুরের বাড়িতে আজ পৌঁছে যায় পুলিশ। তাঁর বাড়িতে গিয়ে দুটি নোটিস দিয়েছে পুলিশ। একটি মামলায় তাঁকে ৩ জুলাই এবং অন্য মামলায় ৫ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রের খবর,  ৮ই মে শক্তিপুরে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক জনসভা থেকে শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুরুচিকর মন্তব্য করেন এজেইউপি দলের শক্তিপুর থানা এলাকার আহ্বায়ক আনিসুর রহমান ও খোদ হুমায়ুন কবীর। ওই সভার মূল উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আনিসুর । তাঁর বাড়ি শক্তিপুর থানার অন্তর্গত সোমপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পালিতাপাড়ায়। সেই অভিযোগে সোমবার রাতে তানকেগ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    এছাড়াও সোমবার রাতে রেজিনগর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে এজেইউপর আরও দুই  নেতা গোলাম মোস্তফা ও আমিনুল হককে। এদের মধ্যে আমিনুল, হুমায়ুনের  অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ  বলে পরিচিত এবং  গোলাম মোস্তফা এজেইউপি-র কাশিপুর অঞ্চল সভাপতি। পুলিশের দাবি, গত শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুরে অনুষ্ঠিত যে সভা থেকে হুমায়ুন কবীর উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন, তার মূল আয়োজক ছিলেন এই দুই নেতা।  ধৃত তিনজনকেই পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার বহরমপুর আদালতে পেশ করা হবে।

    সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “কান খুলে শুনে নিন, এভাবে কথা বলতে দেব না। ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করার আগে ২৫ বার ভাববেন। সংযত থাকুন এবং এই ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করুন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি মুর্শিদাবাদ সফর করবেন। তার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “ভারতের সংবিধান ও আইনই শেষ কথা। কারও উস্কানিমূলক বক্তৃতা নয়।” বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ-প্রশাসন।”

    এজেইউপি -র নেতাদের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে  হুমায়ুন তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই পুলিশমন্ত্রী। তিনি নিজেকে সর্বশক্তিমান মনে করছেন। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার এইরকম প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা উচিত কিনা, তা ভেবে দেখার আবেদন জানাচ্ছি।”

    হুমায়ুনের অভিযোগ, “বিধানসভার বাইরে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার জন্য জেলার পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তার বদলে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর দাম্ভিকতাই প্রকাশ করে। আমরা মমতা ব্যানার্জির দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে সরিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী এনেছি। কিন্তু সেই মুখ্যমন্ত্রী যদি ‘জিরো টলারেন্সে’র নামে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে যুক্ত করে দলের শক্তি বাড়াতে চান, তবে তা রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার। বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি করে তিনি আস্ফালন দেখাতে চাইছেন।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)