• বাদল অধিবেশনের আগেই মোদীর মন্ত্রিসভায় রদবদল? ‘ডিলিমিটেশন’ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই চর্চা প্রশাসনের অন্দরে
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হয়ে যেতে পারে। তার আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাৎ এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে সব মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনাকেই জোরালো করেছে। কিন্তু বাদল অধিবেশনের আগে হাতে যে সময় আছে, তার মধ্যে এই রদবদল সেরে ফেলা কার্যত সম্ভব নয় বলেই মনে করছে বিজেপির অন্দর মহল এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের একটা বড় অংশ।

    সরকারি সূত্রে খবর, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ব্যাপারে বেশি আগ্রহী কেন্দ্রের শাসকদল। আপাতত তা নজরে রেখেই পা ফেলা হচ্ছে। আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার লক্ষ্যে গত এপ্রিল মাসে (দেশের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রীয়শাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোটের আবহে) সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিল পাশ করানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল শাসক শিবির। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনের নামে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের যে কৌশল সরকার নিয়েছিল, তাতে বিরোধীদের অসম্মতি ছিল। সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পিছু হটতে বাধ্য হয় মোদী সরকার, যা তাদের কাছে বড় ধাক্কা ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মত। এ বার যাতে সে রকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়, আপাতত তা নিশ্চিত করাই সরকার পক্ষের একমাত্র লক্ষ্য।

    সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, এই সময়ে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলে যাঁরা মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়বেন, তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ জন্মাবে। তার অভিঘাত সংসদে বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে গড়াতে পারে। বরং, যদি মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়টি পিছিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে বিলের পক্ষে বেশি সমর্থন জোগাড়ের রাস্তা খোলা থাকে। মন্ত্রিসভার রদবদল ঘটিয়ে আপাতত কাউকে চটানোর পক্ষপাতী নয় শাসক শিবির। সেই কারণে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

    তা ছাড়া বাদল অভিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীরও বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে। আগামী ১ জুলাই ২ দিনের সফরে ভারতে আসছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ফলে নানা রকম সরকারি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন মোদী। এর পর ৪ জুলাই তিনি রাজস্থান যাবেন। তার পরে ৬ জুলাই যাবেন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জ়িল্যান্ড সফরে। ১১ জুলাই তাঁর ফেরার কথা। ফলে হাতে সময় কম। ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রদবদল হলেও নতুন মন্ত্রীরা প্রস্তুতির বিশেষ সময় পাবেন না। তা-ও সরকারের নজরে থাকার কথা।

    যদিও অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই রদবদলের নজির রয়েছে মোদী জমানায়। ২০২১ সালের ৭ জুলাই মন্ত্রিসভার রদবদল ঘটিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই সময়ে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছিল রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং প্রকাশ জাভড়েকরের মতো নেতাদের। তবে এ বারের পরিস্থিতি যে আলাদা, সে কথাও মেনে নিচ্ছেন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ। তাঁদের মত, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের বিষয়টি। তা নজরে রেখেই সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)