• স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে তিন মাসের শিশুর আঙুল কেটে দিল! চাঁচল হাসপাতালে তোলপাড়
    এই সময় | ৩০ জুন ২০২৬
  • চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। স্যালাইনের নল খুলতে গিয়ে তিন মাসের শিশুর বুড়ো আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগ হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী উজ্জ্বল সাহার বিরুদ্ধে। কাঁচি দিয়ে স্যালাইনের ব্যান্ডেজ কাটতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ। ওই অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে শিশুর পরিবার। যদিও এই ঘটনার পরে উজ্জ্বলের সাফাই, কাজ করার সময়ে ঘুম পেয়ে গিয়েছিল। তাতেই এই ঘটনা ঘটেছে। শিশুর দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন স্বাস্থ্যকর্মীর এ হেন বক্তব্য ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে তুমুল অশান্তি ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরেও। মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখছে তারা।

    হাসপাতাল সূত্রে খবর, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কুশিদা এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নাজমা বিবি তাঁদের অসুস্থ শিশুকে গত ২৬ জুন চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করান। শিশুটি জ্বর, শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার তার ছুটি হয়ে যাওয়ারও কথা ছিল। তার আগে স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে।

    হাসপাতাল ও ওই স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিশুর মা নাজমা। অভিযোগ, সোমবার এই ঘটনা ঘটার পরে প্রতিবাদ জানাতে গেলে অস্থায়ী কর্মী ও তাঁর সঙ্গীরা নাজমা বিবির গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন ও খারাপ ব্যবহার করেন।

    মুহূর্তে পরিস্থিতি ঘোরাল হয়ে ওঠে। নাজমার বাড়ির লোক ও পাড়ার লোকজন খবর পেয়ে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাস্থলে পৌঁছন চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার সুমিত তালুকদার। তিনি ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানান, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুপার বলেন, ‘সাত দিন আগে শিশুটি ভর্তি হয়েছিল। আজ তাকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল। চ্যানেল খুলতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। নিশ্চিন্তে থাকুন, এই ঘটনার জন্য যে দায়ী, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।’

    মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ী তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হয়েছে।

    এ দিকে এই ঘটনায় একই সঙ্গে ক্ষোভ ও আতঙ্ক রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা, দুর্ব্যবহার, অযথা ধমকানো এবং রোগীর পরিজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার বার অভিযোগ উঠলেও পরিস্থিতির তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই দাবি তাঁদের।

  • Link to this news (এই সময়)