আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় মঙ্গলবার সকালে ঘটে গেল দুর্ঘটনা। অল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলেন বহু মানুষ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাছধরা ট্রলার পরপর তিনটি যাত্রীবাহী নৌকায় ধাক্কা মারায় মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে যায় নৌকাগুলি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে নামখানার নারায়ণপুর জেটিঘাট এলাকায়। যদিও সৌভাগ্যবশত দুর্ঘটনার সময় নৌকাগুলিতে কোনও যাত্রী না থাকায় বড়সড় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই নারায়ণপুর জেটিঘাট এলাকায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ঘাটে একাধিক যাত্রীবাহী নৌকা দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক সেই সময় ‘মা ব্রহ্মময়ী’ নামে একটি মাছধরা ট্রলার নদীপথ দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই যান্ত্রিক গোলযোগের মুখে পড়ে। ট্রলারের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর চালক সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রলারটি দ্রুত তীরের দিকে ছুটে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি জেটিঘাট সংলগ্ন তীরে দাঁড়িয়ে থাকা পরপর তিনটি যাত্রীবাহী নৌকায় সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে নৌকাগুলি মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে জলের মধ্যে ডুবতে শুরু করে।
বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ চমকে ওঠেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাজুড়ে হইচই পড়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় মৎস্যজীবী, নৌকার মাঝি এবং এলাকাবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধারকাজ শুরু হয় তৎপরতার সঙ্গে। ডুবে যাওয়া নৌকাগুলিকে শনাক্ত করা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বোঝার কাজও শুরু হয়। অনেকেই নদীতে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সেই সময় যদি নৌকাগুলিতে যাত্রী থাকতেন, তাহলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারত। প্রতিদিন এই জেটিঘাট থেকে বহু মানুষ নদীপথে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে সকালের দিকে কর্মসূত্রে বা প্রয়োজনীয় কাজে যাত্রীদের চাপ থাকে বেশি। ফলে কয়েক মিনিটের হেরফেরেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এফবি মা ব্রহ্মময়ী নামে মাছধরা ট্রলারটি আচমকা যান্ত্রিক সমস্যার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এরপর সেটি সরাসরি যাত্রীবাহী তিনটি নৌকার উপর গিয়ে ধাক্কা মারে। তিনি বলেন, “ভাগ্য ভাল, তখন নৌকাগুলিতে কোনও যাত্রী ছিল না। যদি যাত্রী থাকত, তাহলে প্রাণহানি নিশ্চিত ছিল। আমরা বড়সড় বিপদের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছি।”
এই দুর্ঘটনায় যদিও কোনও প্রাণহানির খবর নেই, তবে ডুবতে বসা নৌকাগুলির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা গোটা ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছেন। ট্রলারের যান্ত্রিক ত্রুটি কীভাবে ঘটল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার পর ফের নদীপথে যাত্রী পরিবহণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মাছধরা ট্রলার এবং অন্যান্য নৌযানের নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। পাশাপাশি জেটিঘাট সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি আরও জোরদার করার দাবিও উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালের এই ঘটনা নামখানা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও, অল্পের জন্য যে বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে, সেটাই এখন স্বস্তির বিষয়। তবে এই দুর্ঘটনা নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।