• শুভেন্দুর 'সবক' হুঁশিয়ারির পরেই নোটিস হুমায়ুনকে
    আজকাল | ৩০ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, হুমায়ুন কবীরের মতো লোকজনকে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে এবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ তাঁকে দু'টি মামলায় তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজির দেওয়ার নোটিশ ধরাল। 

    মঙ্গলবার বেলা ১১ টা নাগাদ রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ  হুমায়ুনের শক্তিপুরের বাড়িতে পৌঁছে যায়। তবে পুলিশ যখন হুমায়ুনের বাড়িতে যায় সেই সময় নওদার বিধায়ক এবং তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিন বাড়িতে ছিলেন না। বিধায়কের অবর্তমানে দুই থানার পুলিশ হুমায়ুনের স্ত্রী মীরা সুলতানাকে নোটিশ ধরিয়ে যায়। 

    মুর্শিদাবাদ পুলিশ  জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শক্তিপুর থানায় দায়ের হওয়া সুয়ো মোটো মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হুমায়ুনকে শক্তিপুর থানায় তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে ৩ জুলাই এবং রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া সুয়ো মোটো মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে ৪ জুলাই হাজিরার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

    প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে রেজিনগর এবং শক্তিপুর দু'টো আসনেই জয়লাভ করেন হুমায়ুন । ৮ মে শক্তিপুরে একটি রাজনৈতিক জনসভা করে হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেবেন। সেখানে তাঁর ছেলে  গোলাম নবী আজাদ উপনির্বাচনে লড়াই  করবে। তিনি নওদার বিধায়ক হিসেবে থেকে যাবেন। 

    অভিযোগ উঠেছে ওই রাজনৈতিক জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীর শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাসের উদ্দেশে একাধিক 'কুকথা' বলেন। এর পাশাপাশি ওই রাজনৈতিক জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীর একাধিক উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবারও  রেজিনগর থানার সোমপাড়া এলাকায় অপর একটি রাজনৈতিক জনসভায় হুমায়ুন কবীর একাধিক উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। 

    সোমবার রাতে রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ দু'টি রাজনৈতিক জনসভার তিন উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই  হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে পৌঁছে গেল পুলিশ। 

    জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিএনএস-এর একাধিক ধারায় হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে দু'টি থানায় যে সুয়ো মোটো মামলা হয়েছে তার মধ্যে একাধিক ধারা জামিন অযোগ্য। হুমায়ুন কবীর পুলিশের নোটিশ পাওয়ার পর থানায় হাজিরা না দিলে বা পুলিশের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে তিনি গ্রেপ্তারও হতে পারেন। 

    গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন পুত্র বলেন, 'পুলিশ যখন আমাদের বাড়িতে নোটিশ দিতে গিয়েছিল সে সময় আমি বা বাবা কেউই বাড়িতে ছিলাম না।  আমরা কিছু দরকারে বহরমপুরে আছি। পুলিশ মাকে নোটিশ ধরিয়ে এসেছে। আমরা আইন মেনে  যা করা উচিত সেটাই করব।'
  • Link to this news (আজকাল)