আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাহাঙ্গির খান ও তাঁর স্ত্রী সারিকা ওরফে রেজিনা বিবিকে ঘিরে ফের দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়াল। পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে মঙ্গলবার তাঁদের ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই মামলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে।
অন্যদিকে, জাহাঙ্গির খান ও তাঁর পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি থাকার অভিযোগ ঘিরে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুইয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগপত্রে জাহাঙ্গীর খান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একাধিক স্থাবর সম্পত্তির নথি পুলিশ ও প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গির খানের নিজের নামে অন্তত চারটি সম্পত্তি রয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রী সারিকা ওরফে রেজিনা বিবি-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও রয়েছে মোট ৩৪টি সম্পত্তি। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্বল্প সময়ে এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়ার পেছনে আর্থিক অনিয়ম বা অন্য কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক নথি যাচাই করা হচ্ছে। জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তির কাগজপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে মালিকানার প্রকৃত চিত্র। প্রাথমিক তদন্তেই বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। ইতিমধ্যেই একাধিক ভুয়ো বা সন্দেহজনক সম্পত্তির হদিস মিলেছে বলেও জানা গিয়েছে। কিছু সম্পত্তির নথিতে তথ্য গোপন, মালিকানা বদল এবং আর্থিক লেনদেনে অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
এই মামলায় বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই দাবি করেছেন, গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের অজান্তে জাহাঙ্গিরের বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে। এর নেপথ্যে পেছনে কী ধরনের আর্থিক উৎস কাজ করেছে, তা সামনে আনা জরুরি। তিনি বলেন, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালায়, তাহলে আরও বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে।
এদিকে, ফলতার বাসিন্দা কুন্তল মজুমদারের বক্তব্য, এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। এত অল্প সময়ে এত সম্পত্তি কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় ছিল। তিনি মনে করেন, তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসা উচিত, যাতে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটে।
জাহাঙ্গির খান ও তাঁর স্ত্রীর আদালতে পেশ হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও বেড়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে নিশানা করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ছে।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুধু সম্পত্তির সংখ্যা নয়, সম্পত্তি ক্রয়ের সময়কাল, আর্থিক উৎস এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের নথিও যাচাই করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে জাহাঙ্গির খান ও সারিকা ওরফে রেজিনা বিবিকে ঘিরে তদন্ত ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং পুলিশের তদন্তে আগামী দিনে আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।