• বিধান ভবনে বাদানুবাদ, কর্মসূচি নিয়ে ভর্ৎসনার মুখে উত্তেজিত মনোজ, কড়া বার্তা বেণুগোপালের
    প্রতিদিন | ৩০ জুন ২০২৬
  • শুভঙ্কর সরকার প্রদেশ সভাপতি হওয়ার পর থেকে কলকাতায় যা কর্মসূচি নিয়েছেন, তাতে প্রদেশকে এড়িয়ে বারবার অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আলাদা কর্মসূচি নেওয়ার! তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও উঠেছে একই অভিযোগ। তেমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রদেশকে না জানিয়ে অধীর-ঘনিষ্ঠ মনোজ চক্রবর্তীর কলকাতায় এসে একটি কর্মসূচি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। তাও একেবারে এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের সামনে। বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলে চলা শুরু করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। তার পরও সেই পুরনো রোগের কথা শুনে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন বেণুগোপাল। প্রদেশ নেতৃত্ব বা নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় জেলা সভাপতিকে না জানিয়ে তাদের এলাকায় এসে কর্মসূচি আর যেন কখনও না হয় বেণুগোপাল তা নিশ্চিত করতে বলেছেন সকলকে। মনোজকেও শুনতে হয়েছে মৃদু ভর্ৎসনা। বৈঠকে শুভঙ্কর সরকার ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের পর্যবেক্ষক গোলাম মির, এআইসিসি নেত্রী দীপা দাসমুন্সি। ওই বৈঠকে মির, দীপারাও মনোজকে এর পর থেকে বুঝে চলতে বলেন বলে সূত্রের খবর।

    সোমবারই কলকাতায় এসেছেন বেণুগোপাল। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দুদিনের ম্যারাথন বৈঠক তাঁর। আজ, দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে প্রথমে দুই বিধায়কের সঙ্গে প্রদেশ নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেন, তার পর থেকে মৌলালী যুব কেন্দ্রে শুরু হয়েছে মূল পর্যালোচনা পর্ব। কিন্তু তারই মাঝে সোমবার সন্ধ্যার প্রদেশ দপ্তরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে চর্চা এখনও চলছে। 

    জানা যায়, বেণুগোপাল প্রত্যেক জেলা সভাপতি-সহ পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির মতামত শুনছিলেন সেই বৈঠকে। মাঝে একটি জরুরি ফোন সেরে ঘরে ঢুকেই দেখেন উত্তেজিত মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী পরনের পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে মধ্য কলকাতা জেলা সভাপতি মানস সরকারকে রীতিমতো শাসাচ্ছেন। একটি সূত্রের দাবি, অবস্থা এমন যে, তিনি পারলে বেণুগোপালের মিটিং ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত করে ঘটনা জানতে চান এআইসিসি সাধারণ সম্পাদিক। ওড়িশায় মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিকের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে মধ্য কলকাতা উৎকল ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন জেলার কর্মীরা। মনোজ ছিলেন নেতৃত্বে। কিন্তু প্রদেশের কেউ ছিলেন না। একটি সূত্রের দাবি, এত বড় কর্মসূচি প্রদেশকে বা জেলা নেতৃত্বকে জানালে আরও বড় করে একসঙ্গে করা যায়, এই প্রশ্ন মানস মনোজকে করতেই তিনি বলেন, তাঁর কর্মীরা আচমকাই সেই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। তাছাড়া তাঁর জেলাতেও কলকাতা থেকে গিয়ে তাঁকে না জানিয়ে কর্মসূচি হয় বলে পাল্টা দাবি করে বসেন মনোজ। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করে প্রদেশ নেতৃত্ব। অনেকের দাবি, দীপা, মিররা বুঝতেই পারেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঢাকতে অজুহাত দিচ্ছেন মনোজ। বেণুগোপাল মানস, মনোজ দুজনের কাছেই জানতে চান। তাঁর এলাকায় এসে কর্মসূচি, অথচ না জানেন মানস নিজে, না জানে প্রদেশ, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে মানস তখন বেণুগোপালের উদ্দেশে মনোজকে শুনিয়েই বলেন, ‘মনোজ দা আপনার যন্ত্রনাটা যন্ত্রনা, আর আমারটা কিছু না? আপনি এসে এত বড় কর্মসূচি করছেন একবারও জানালেন না?’ মনোজ ততক্ষণে ফের উত্তেজিত। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি উত্তর তাঁর কাছে না পেয়ে বিরক্ত বেণুগোপালও। সূত্রের দাবি, এর পরই বেণুগোপালের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘দল একটা নির্দিষ্ট শৃঙ্খলে চলতে শুরু করেছে। সামনে পরপর কর্মসূচি আছে। এখন এআইসিসি, প্রদেশ নেতৃত্ব যেভাবে কর্মসূচি সাজাচ্ছে সেই অনুযায়ী সকলে একসঙ্গে চলুন। দলে ভিন্নমত থাকতেই পারে। দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়েও চর্চা হতে পারে। কিন্তু নেতৃত্বকে অস্বীকার করে বা এড়িয়ে গিয়ে কর্মসূচি দলের পক্ষে ভাল নয়। এর পর কোনও কর্মসূচি কেউ নিলে সেসব রাজ্য নেতৃত্ব আর সংশ্লিষ্ট জেলা নেতৃত্বকে জানিয়ে করতে হবে।’ 
  • Link to this news (প্রতিদিন)