সুরক্ষা-রক্ষণাবেক্ষণে আপস নয়! দক্ষিণ ভারতের লাইফলাইন ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে বিশেষ পদক্ষেপ
News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
: খড়গপুর থেকে বালেশ্বরগামী ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক। দিনরাত ছোট-বড় মিলিয়ে অসংখ্য মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের অবাধ যাতায়াত এই পথে। বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারত যাওয়ার অন্যতম প্রধান লাইফলাইন হওয়ায় এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে শুধু নিত্যদিনের যান চলাচলের জন্যই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও এই রাস্তার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের পোক্তাপুল থেকে শ্যামপুরা পর্যন্ত এই ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরেই তৈরি করা হয়েছে আপৎকালীন যুদ্ধবিমান ওঠানামার জন্য বিশেষ রানওয়ে। স্বাভাবিকভাবেই দেশের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়কের এবার ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ বা পরিকাঠামোগত নিরীক্ষা চালাল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর একটি অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খড়গপুর থেকে বালেশ্বর পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বিস্তীর্ণ অংশের অবস্থা খুঁটিয়ে দেখা হয়। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার বর্তমান গুণগত মান কতটা ঠিক রয়েছে, প্রতিদিনের বিপুল গাড়ির চাপে কোথাও কোনও ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না এবং রাস্তার কোথাও কোনও কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে কি না, মূলত তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘রোড টেস্টিং অ্যাপারেটাস’ নামক এই বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে জাতীয় সড়কের ভারবহন বা ধারণ ক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব। এই যন্ত্র ব্যবহার করেই রাস্তার প্রতিটি স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন আধিকারিকরা।
পরিদর্শন চলাকালীন জাতীয় সড়কের যে অংশগুলির অবস্থা বর্তমানে বেহাল বা যেখানে দ্রুত মেরামতির প্রয়োজন রয়েছে, আধিকারিকরা সেই এলাকাগুলি বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন। জানা গিয়েছে, পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞদের তরফে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রাস্তাটির প্রয়োজনীয় মেরামতি ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এবং আপৎকালীন রানওয়ে থাকায় এই ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সুরক্ষায় ও রক্ষণাবেক্ষণে কোনও রকম আপস করতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।