• প্রযুক্তির যুগেও হারিয়ে যায়নি মাটির টান, পাহাড়ির গ্রামের কাদামাখা মাঠে ব্যাপক হইহুল্লোড়
    News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
  • আধুনিকতার ব্যস্ততার মাঝেও পাহাড়ি জনজীবনে আজও সমান গুরুত্ব বহন করে চলেছে কৃষি ও সংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করেই কালিম্পং জেলার পারেংটার এলাকায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হল গোর্খা সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক উৎসব ‘অসার পনেরো’। কাদামাটির মাঠে নেমে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সকালের প্রথম আলো ফুটতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ধানক্ষেতে জড়ো হন।

    শুভক্ষণ মেনে শুরু হয় ধান রোপণের কাজ। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী এমনকী শিশুরাও অংশ নেয় এই উৎসবে। কৃষিকাজের সঙ্গে উৎসবের আবহ মিশে গিয়ে গোটা এলাকাকে পরিণত করে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। ধান রোপণের ফাঁকেই ভেসে ওঠে ঐতিহ্যবাহী অসারে গান। লোকসঙ্গীতের সুরে ও নৃত্যের তালে তালে কাদামাখা মাঠে আনন্দে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। হাসি, উল্লাস আর পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে পাহাড়ি সমাজের চিরন্তন ঐক্য ও সম্প্রীতির ছবি।

    স্থানীয়দের মতে, অসার পনেরো কেবল কৃষিকাজের সূচনার উৎসব নয়, এটি প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বছরের পর বছর ধরে এই উৎসব মানুষকে একত্রিত করেছে এবং পাহাড়ের সংস্কৃতিকে জীবন্ত রেখেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অসার পনেরো আমাদের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ধান রোপণের মাধ্যমে আমরা ভাল ফলনের প্রার্থনা করি, পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করি।

    নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উৎসবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতি, কৃষি ও লোকসংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয় হিসেবে অসার পনেরো আজও পাহাড়ি সমাজের হৃদস্পন্দন হয়ে রয়েছে। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগেও মাটির গন্ধ, লোকগানের সুর এবং সম্মিলিত পরিশ্রমের এই উৎসব প্রমাণ করে, নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরেই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে চায় পাহাড়ের মানুষ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)