ইনচার্জের অনুপস্থিতিতে মিলছে না রসিদ, দেহ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আত্মীয়দের
News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
পৌরসভার টানাপোড়েনের জেরে নবদ্বীপ মহাশ্মশানে পরিষেবা ব্যাহত, ইনচার্জ না থাকায় বিপাকে মৃতের পরিবার। নবদ্বীপ পৌরসভার প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার প্রভাব এবার পড়ল পৌরসভা পরিচালিত নবদ্বীপ মহাশ্মশানে। এদিন দুপুরে ইনচার্জের অনুপস্থিতিতে দাহকার্য পরিচালনা নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় শবদেহ নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় একাধিক পরিবারকে। শ্মশান সূত্রে জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ মহাশ্মশানে তিনটি শিফটে মোট ২১ জন কর্মী কাজ করেন।
প্রতিটি শিফটে সাতজন করে কর্মী থাকলেও পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকে ইনচার্জের উপর। সম্প্রতি দীর্ঘদিনের ইনচার্জ মানব সাহা অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবর্তে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি চলতি মাসের শুরু থেকেই কাজে অনুপস্থিত। এরপর সাময়িকভাবে অবসরপ্রাপ্ত মানব সাহাকেই ফের দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তার দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন না মেলায় তিনি ডিউটিতে যোগ দেননি। এদিন দুপুর ২টা থেকে তাঁর শিফট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইনচার্জ না থাকায় শ্মশানে প্রশাসনিক কাজ থমকে যায়।
কর্মীদের দাবি, ইনচার্জ ছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দাহকার্যের ফি গ্রহণ বা রসিদ প্রদান করা সম্ভব নয়। তাই ওই সময় কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। তবে আগের শিফটে চারটি মৃতদেহের নথিভুক্তিকরণ হয়ে যাওয়ায় প্রথমদিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু পরে সমস্যা বাড়তে থাকে। শ্মশানের তিনটি বৈদ্যুতিক চুল্লির মধ্যে বর্তমানে দুটি সচল রয়েছে। একটি চুল্লিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে বলে কর্মীরা জানিয়েছেন। এদিকে, নবদ্বীপ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থাও জটিল।
পৌরপতি জেলবন্দি, উপ-পৌরপ্রধান পদত্যাগ করেছেন। ফলে বর্তমানে পৌরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এক্সিকিউটিভ অফিসার দীপক কর। এ বিষয়ে দীপক কর বলেন, “নতুন পৌরবোর্ড বা প্রশাসক দায়িত্ব নিলে ওই কর্মীর কাজের অনুমোদন করানো যাবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।” প্রশাসনিক জটিলতা ও কর্মী সংকটের জেরে নবদ্বীপ মহাশ্মশানের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। মৃতের পরিবারের দুর্ভোগ এড়াতে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।