'মা আসলে মিথ্যে...', ওর খোঁজে রোজ ফোন আসে, ছুটে যাই! কিন্তু ৩ মাস মেয়েকে না দেখে কেমন আছেন মা?
News18 বাংলা | ৩০ জুন ২০২৬
চলতি বছর ১৩ মার্চ অন্ধকার নেমে আসে এক বৃদ্ধ মা-বাবার জীবনে। বীরভূম জেলা সদর শহর সিউড়ি থানার অন্তর্ভুক্ত ডাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দা বছর ২৪-এর অমৃতা সিংহ সে দিন কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে, সেই থেকে কেটেছে প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময়, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মেয়ের সন্ধান মেলেনি। অমৃতা সিংহের বাবা অর্ধেন্দু সিংহ বলেন, “১৩ মার্চ মেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে সকালে বেরিয়ে যায়, সেই সময় ওর মা বাড়িতে পুজো করছিল।”
“যদিও আবার মেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিল সেই দিন, বাড়িতে এসে স্নান করে পুজো করেছে মেয়ে, ওই সময় ওর মা বাড়ির অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল, তারপর আবার কাউকে কিছু না জানিয়ে দুপুর ১২:৩০ নাগাদ বাড়ির মেন গেটে বাইরে থেকে লাগিয়ে বেরিয়ে যায়। সেই থেকে হাজার খোঁজাখুঁজি করেছি, এখনও কোথাও ওর সন্ধান পাচ্ছি না।” অর্ধেন্দু সিংহ জানান, ‘২০০১ সালের জুন মাসের ৬ তারিখ মেয়ের জন্ম। ছোট থেকেই অমৃতা পড়াশোনায় খুবই ভাল ছিল। একদম ছোট থেকে অমৃতা সিউড়ির কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ করে নম্বর পেয়েছে অমৃতা। এরপর দুর্গাপুর বিধানচন্দ্র রায় কলেজ থেকে পড়াশোনা করে। আমার হার্টের অপারেশন হয়। স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময় বাড়িতে আর্থিক সংকট দেখা দেয়।’
অসহায় বাবা বলেন, ‘মেয়ে জানিয়েছিল ও আমার পাশে দাঁড়াতে চায়, ওকে একটা কাজ খুঁজতে হবে।’ মেয়ের এই কথা শুনে রাজি হয়ে যান বাবা।’ মেয়ের হাতে ২০০ টাকা দিয়ে বলেন ‘যা তুই টোটো করে সিউড়ির কয়েকটা দোকান ঘুরে দেখ, যদি কোথাও কাজের সন্ধান পেয়ে যাস আমাকে জানাস, আমি তোর হয়ে তাদের কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন তোকে কাজে রাখে।’ তবে এইসবের মাঝে হঠাৎ ১৩ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় অমৃতা।
তিনি বলেন, “চারদিন পর বাড়ির পাশের একটি সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় অমৃতা সিউড়ি-রাজগ্রাম বাসে করে দুপুর ১:১৫ নাগাদ বেরিয়ে যায়।” বাসের খালাসি জানান, বেশ কয়েকজন মেয়ে তিনি দেউচা পাচামি বাসস্ট্যান্ডে নামিয়েছেন। শুধুমাত্র একটা মেয়েকে মল্লারপুর বাসস্ট্যান্ডে নামিয়েছেন। সেই মেয়ে অমৃতা সিংহ হতে পারে। এই সূত্র ধরে বীরভূম জেলা পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়। তবে এখনও অমৃতার কোনও খবর নেই। অমৃতার বাবা অর্ধেন্দু সিংহ জানান, “মেয়ের মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ, মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাবে এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনও ভাবে ওর মাকে বাঁচিয়ে রেখেছি, রাত্রে ওর মা ঘুমাতে পারে না, সারাদিন কেঁদে চলেছে।”