২০১৩ সালে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুকে আপাতত স্বস্তি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। ২৭ মে রাজস্থান হাইকোর্টের যোধপুর বেঞ্চ আসারামের আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রাখে। এর পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এবং সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে অন্তর্বর্তিকালীন জামিন চেয়েছিলেন আসারাম। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আসারামের জামিনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনতে চায়। সেই কারণে রাজ্যের জবাবও তলব করা হয়েছে। বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন বলেছে, ‘আমরা এখনই জামিন দেব না। আগে বিচার করে দেখব, সত্যিই জামিনের খুব প্রয়োজন রয়েছে কি না। আসারাম বাপুর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা বিচার করা হবে। এ ব্যাপারে রাজ্যকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থান জানানোর জন্য।’
যোধপুরের আশ্রমে ২০১৩ সালে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে আসারামকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে গান্ধীনগরের আশ্রমে এক তরুণীকে একাধিক বার যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে আসারামের বিরুদ্ধে। সেই বারও দোষী সাব্যস্ত করা হয় আসারামকে। ওই মামলায় ২০২৩ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয় আদালত।
অতীতেও একাধিক বার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন আসারাম। বার বার সেই আর্জি খারিজ হলেও ২০২৫-এর শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট এক বার তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছিল। তার পরে ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে যথাক্রমে রাজস্থান এবং গুজরাট হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। তাঁর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন এক নির্যাতিতা।