সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নার্সদের চেঞ্জিং রুমে স্পাই ক্যামেরা লাগানোর অভিযোগ। অভিযোগের তির এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা। অভিযোগ, অভিযুক্ত চিকিৎসকের যে দিনগুলিতে ডিউটি থাকত, সেদিন তিনি নার্সদের চেঞ্জিং রুমে গোপন ক্যামেরা রেখে আসতেন। বিষয়টি নজরে আসে নার্সদের। তার পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত চিকিৎসকে। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে ইটাহার থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত চিকিৎসকের নাম বিশ্বজিৎ ঘোষ। মঙ্গলবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ডিউটিতে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মরত নার্সরা। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের BMOH মনু গোরা এক্কাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন নার্সরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইটাহার থানার পুলিশ বাহিনী এবং ইটাহারের বিডিও দিব্যেন্দু সরকার। এ ছাড়াও, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি CMOH অপূর্বকুমার দাস সেখানে যান। আধিকারিকদের আশ্বাসে বিক্ষোভ তুলে নেন নার্সরা।
পরে পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কর্মরত নার্সরা অভিযুক্তকে ঘিরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ওই স্পাই ক্যামেরাটি ভাঙা অবস্থায় বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স জানিয়েছেন, ১০ জুন চেঞ্জিং রুমে এসে তিনি দেখেন টেবিলে একটি কালো পেন রয়েছে। পেনটি থেকে নীল আলো ব্লিঙ্ক করছিল। তিনি দামি পেন ভেবে সেটিকে সরিয়ে রেখেছিলেন। ওই নার্স আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত চিকিৎসক আমাকে ফোন করে বলেন পেনটি ওনার। নাইট স্টাফের সঙ্গে বসে চা খাওয়ার সময়ে ফেলে গিয়েছেন। পেনটি ওনাকে দিয়ে দিই। তবে পরে আমার মাথায় আসে, চেঞ্জিং রুমে বসে কেউ চা খায় না। নাইটের স্টাফকে ফোন করে চা খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।’ যার জেরে সন্দেহ হয় চিকিৎসকের উপরে। পরের দিন নার্সরা চিকিৎসককে পেনটি দেখাতে বললে, উনি জানান পেনটি আনেননি। পরে নেট ঘেঁটে নার্সরা জানতে পারেন ‘পেন ক্যামেরা’ ওই রকমই দেখতে হয়। এর পরে খতিয়ে দেখা হয় সিসিটিভি ফুটেজও। ফুটেজে একাধিক বার ওই চিকিৎসককে চেঞ্জিং রুমে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে।
খবর পেয়ে এ দিন হাসপাতালে যান বিজেপির জেলা সম্পাদক সবিতা বর্মন। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। জেলার ডেপুটি CMOH অপূর্বকুমার দাস বলেন, ‘নার্সদের চেঞ্জিংরুমে কোনও ডিভাইস রাখার অভিযোগ উঠেছে। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট CMOH-কে সাবমিট করেছি।’
ইটাহারের BDO দিব্যেন্দু সরকার বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’ রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানে বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেরা করা হচ্ছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’