• সরু রাস্তায় ঢোকে না অ্যাম্বুল্যান্স, চটের বস্তায় করে রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে গ্রামবাসীরা
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • একপাশে পুকুর। অন্য দিকে জঙ্গল। মাঝে সরু রাস্তা। সেখান দিয়েই রোগীকে চটের বস্তায় তুলে চার জন মিলে কোনও রকমে নিয়ে গেলেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। মঙ্গলবার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের সেহেরা রাধানগর পঞ্চায়েতের এমন ঘটনায় চোখ কপালে উঠেছে অনেকেরই। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। তবে দ্রুত রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সন্দেশখালি ১-এর বিডিও সায়ন্তন সেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তুহিন কৃষ্ণ মণ্ডল নামে এক প্রৌঢ়। হাঁটাচলায় অসুবিধা রয়েছে তাঁর। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও দরকার। বিধি বাম হয়ে দাঁড়ায় রাস্তা। অ্যাম্বুল্যান্স তো ঢুকবে না। তা হলে উপায়?

    এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরা। একটা চটের বস্তায় তুহিনকে বসিয়ে দেন তাঁরা। তার পরে চার জন চারটি কোণ ধরে তাঁকে তুলে হাঁটতে শুরু করেন। এ ভাবেই তাঁকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    এমন ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ২০-৩০টি পরিবারকে সেহেরা রাধানগর পঞ্চায়েতের ১৩২ নম্বর বুথ। অভিযোগ, তাঁদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটাই। গ্রামবাসীরা জানালেন, আগে রাস্তা একটু চওড়া ছিল। কিন্তু আয়লায় ধস নামে। পুকুরের মাটিও কেটে নেওয়া হয়েছে। ফলে সরু হয়ে গিয়েছে রাস্তা। আয়লার পর থেকে মাটি সারানো হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের। ফলে এ ভাবেই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাঁদের। সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েন শিশু, বৃদ্ধ আর গর্ভবতীরা।

    তবে এই ঘটনার আগে পর্যন্ত রাস্তা নিয়ে কোনও অভিযোগ তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন সন্দেশখালি ১-এর বিডিও সায়ন্তন সেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটা জানলাম। আগামী কালই এলাকা পরিদর্শনে যাব। স্থানীয় পঞ্চায়েতের সঙ্গে কথা বলব।’ যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা সারানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)