• AI দিয়ে অমৃতার ছবি বিকৃত করে প্রতারণার চেষ্টা, থানায় ছুটলেন বাবা অর্ধেন্দু, শেষমেশ...
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • ঋতভাষ চট্টোপাধ্যায়

    তিন মাসের বেশি অতিক্রান্ত, এখনও নিখোঁজ মেয়ের হদিশ মেলেনি। থানা-পুলিশ, নিত্য এ দিক-সে দিক দৌড়োঝাঁপ লেগেই রয়েছে। কিন্তু মেয়েকে খুঁজে পাওয়া তো দূর অস্ত, সেই অর্থে নির্ভরযোগ্য কোনও সূত্রও মেলেনি। তার ফলে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এ সবের মধ্যেই সাইবার প্রতারণার শিকার হতে যাচ্ছিলেন বীরভূমের সিউড়ির সেই বৃদ্ধ অর্ধেন্দু সিনহা! এই ঘটনার ঠিক এক দিন আগে, অর্থাৎ সোমবার জানা যায়, সিউড়ির এক ব্যক্তি অমৃতার বাবাকে কচুজোড় এলাকার এক মৌলবীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, অর্ধেন্দুর স্ত্রী সুপ্রিয়া সিনহাকে যেতে বলা হয়েছিল মুর্শিদাবাদের একটি আশ্রমে। সেখানে আবার সাধকের সঙ্গে কথা বলার আগে ৫০ টাকা এন্ট্রি ফি দেওয়ার কথা বলা হয়। 

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মেয়ে অমৃতা সিনহার একটি ছবি তৈরি করে প্রতারণার চেষ্টা হয়েছে বলে সিউড়ি থানায় অভিযোগ করেছেন অর্ধেন্দু। বৃদ্ধের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পরেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে এই সময় অনলাইন বীরভূমের পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ বুন্দেশের সঙ্গে যোগযোগ করেছিল। তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে মেসেজও করা হয়েছে। তারও জবাব মেলেনি এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত।

    অর্ধেন্দুর অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোন ধরার পরে উল্টো দিকের ব্যক্তি জানান, তাঁর নাম রাজ সরকার এবং তিনি শিলিগুড়ির বাসিন্দা। এর পরেই সেই ব্যক্তি বৃদ্ধকে জানান, অমৃতা হরিয়ানার যমুনানগরে একটি ছেলের সঙ্গে ঘরভাড়া নিয়ে থাকছেন। তাঁরা যে বাড়িতে রয়েছেন, তাঁর পাশেই সেই ব্যক্তির এক বন্ধু থাকেন। সেই বন্ধুই তাঁকে অমৃতার একটি ছবি পাঠিয়েছেন। অর্ধেন্দু জানান, অমৃতার সেই ছবিটিও হোয়াটসঅ্যাপের পাঠান নিজেকে রাজ বলে পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি। ওই ছবিতে দেখা যায়, পুকুরের পাশে একটি পার্কের রেলিং ঘেষে এক যুবকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অমৃতা!

    ছবিটি দেখা মাত্রই ফোনের ওপারে থাকা ওই ব্যক্তির কাছে তাঁর বন্ধুর ফোন নম্বর চেয়েছিলেন অর্ধেন্দু। কিন্তু সেই ব্যক্তি জানিয়ে দেন, তিনি তাঁর বন্ধুর ফোন নম্বর দিতে পারবেন না। অর্ধেন্দু বলেন, ‘নম্বর দিতে না চাওয়ায় ভদ্রলোককে বলেছিলাম, ওর বন্ধু যেন হরিয়ানার সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে আমায় একটা ফোন করেন। কিংবা অন্তত ভিডিয়ো কলে যেন একবার অমৃতাকে দেখান। এর পরেই আমাকে বলা হয়, এক হাজার টাকা দিলে তবেই মেয়ের খবর হরিয়ানার ওই স্থানীয় থানায় দেওয়া হবে। অনলাইনে এক হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। তখনই ওদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝে যাই।’ বৃদ্ধ জানান, এই ঘটনার পরেই তিনি থানায় যান। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেটি তো পুলিশকে দিয়েইছেন অর্ধেন্দু, তার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের অডিয়ো রেকর্ডিংও দিয়ে এসেছেন। পুলিশকেও সেই ছবি দেখিয়েছেন। এর পরে পুলিশই ওই ছবি যাচাই করে জানিয়েছে, সেটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

    সিউড়ি থানার এক অফিসার জানিয়েছেন, অর্ধেন্দুবাবু থানায় যোগাযোগ করার পরে ছবিটি দেখে একটু সন্দেহ হয়। এর পরেই বিভিন্ন ভাবে ছবিটিকে যাচাই করে দেখা যায়, সেটি এআই দিয়ে তৈরি করা। অর্ধেন্দু বলেন, ‘যারা অসহায়তার সুযোগ নিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলতে চাইছে, ঈশ্বর তাদের কোনও দিন ক্ষমা করবেন না।’

    বৃদ্ধকে যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল, সেই নম্বরে ফোন করেছিল এই সময় অনলাইন। সেই ফোনটি যিনি ধরেছিলেন, তিনি নিজেকে রাহুল সরকার বলে পরিচয় দেন। জানান, তিনি বিহারে থাকেন। এর পরেই অর্ধেন্দুকে ফোন করার ব্যাপারে তাঁকে কিছু প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু যথাযথ উত্তর না দিয়েই তিনি ফোন কেটে দেন। তার পরে আর ফোন ধরেননি। এমনকী ট্রুকলার নামক অ্যাপেও সার্চ করে দেখা গিয়েছে, তাঁর নামের পাশে ফ্রড (প্রতারক) লেখা।

  • Link to this news (এই সময়)