মিল্টন সেন,হুগলি: রিষড়া পুরসভার কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের রিষড়ার বাড়িতে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ সদস্যরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘিরে ফেলে গোটা এলাকা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় হুগলির রিষড়ায়। ওই বাড়িতে থাকেন অপরূপার স্বামী, রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলি। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় রিষড়া থানার পুলিশ বাহিনী। গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু হয়। বাড়ির ভিতরে থাকা কাউন্সিলর শাকির আলিকে বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারী দল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে, রামনবমীর দিন। সেদিন রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল রিষড়া। কিছুক্ষণের জন্য পুলিশকে লক্ষ করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি, বোমাবাজি ও একাধিক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় এন আই এর হাতে।
সেই মামলার সূত্রেই এদিনের তল্লাশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অপরূপা পোদ্দার ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ ছিলেন। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাঁর স্বামী শাকির আলি বর্তমানে রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ।
দুপুরে হাতজোড় করে বাড়ি থেকে বেরোন শাকির আলি। তাকে বাড়ি থেকে বের করার সময় সাময়িক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শাকিরের অনুগামীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন সাংসদ বলেছেন, বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ ভরসা রয়েছে।
দুপুরে এন আই এর হাতে গ্রেপ্তার স্বামী, বিকেলে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল থানায়। অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল শ্রীরামপুর থানায়।স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করল পুলিশ। বুধবার তাকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারের কমিশনার সুনীল কুমার যাদব জানিয়েছেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শ্রীরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বুধবার তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেছেন,ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ২০২৩ সালে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছিল, তখন বিজেপি সরকার ছিল না।তৃণমূল সরকার ছিল।পশ্চিমবঙ্গ তো সেই সময় এনআইএ তদন্ত শুরু হয় এবং যার যার নামে এফআইআর হয়েছিল যাদের যাদের নাম এসেছিল প্রত্যেককে এনআইএ তদন্তের মধ্যে এনেছে, তার মধ্যে অনেকেই ছিল বিজেপি নেতা কর্মীরাও ছিল। মূল যে অভিযুক্ত, তার নাম যেটা ছিল, তাকে তদন্ত করতে করতে আজকে এমন একটা জায়গায় এসেছে যেখানে তারা মনে করেছে যে, সাকির আলিকে অ্যারেস্ট করা দরকার।তাই করেছে ।
তিনি আরও বলেন, এখানে তো বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও কিছু করার নেই।তদন্তর গতি অনুযায়ী যা করা দরকার তাই হচ্ছে । কিন্তু তদন্তের কাজে বাধা দিতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ এখন কিন্তু অনেক বেশি শক্ত হাতে তা মোকাবিলা করবে।কারণ মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নতুন আইন এনেছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী জিরো টলারেন্স। গুন্ডামি চলবে না, এবং তার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় তাই হবে।পুলিশের আজকে হাত খোলা, আইনের আজকে হাত খোলা।আইনের শাসন চলবে এখন।
স্থানীয় মানুষ অভিযোগ করছিল যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য শাকিব আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সেই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন,স্থানীয় মানুষ কি অভিযোগ করছে তা নিয়ে তো আইন-প্রশাসন চিন্তিতও নয়। আইন আইনের মতন চলবে। যদি কোটে যাওয়ার পর যদি দেখা যায় যে তাদের কোনও ধরণের কোনও ভুল নেই। তাহলে কোর্ট নিরপেক্ষ বিচার করবে। এখন আইন প্রশাসন তার দায়িত্ব পালন করবে। সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে। সরকার চলছে জনগণের জন্যে।