তারাতলার পর বাড়তি নজর৷ এবার বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে জলপাইগুড়ি পুরসভা। বেআইনি নির্মাণে বড়সড় অভিযান নোটিস পেল ১৯ বাণিজ্যিক ভবন। তারাতলার ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ। সঠিক নজরদারির অভাবেই এই দশা আর তাই এবার জলপাইগুড়ি শহরে শুরু হয়েছে কড়া অভিযান।
ইতিমধ্যেই শহরের নির্মীয়মান ও পরিত্যক্ত বাড়িগুলিকে চিহ্নিত করে একের পর এক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই ১৯টি বাণিজ্যিক ভবনকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু ক্ষেত্রেই বিল্ডিং প্ল্যানের নকশা না মেনে নির্মাণ কাজ হয়েছে। কোথাও অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে বাড়তি তলা বা অংশ তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতদিন এই সব অভিযোগ সামনে এলেও কার্যত কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠছিল।
এ বিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় জানালেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যেই ১৯টি বাণিজ্যিক ভবনকে নোটিস দিয়েছি। বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ভবনের মাপজোক শুরু হয়েছে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি হবে।’’ তিনি আরও জানান, একটি বাণিজ্যিক ভবনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মহকুমা শাসকের কাছেও রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
রাজ্যের পক্ষ থেকে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ আসার পরেই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। পুরসভা জানিয়েছে, সব রিপোর্ট রাজ্যের কাছে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভার এই উদ্যোগে খানিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শহরবাসী। শহরের বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে এই উদ্যোগ বাস্তবিকরূপেই গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযানে জলপাইগুড়ির নগরচিত্রে কিছু বদল আসে কি না এখন সেটাই দেখার।