ত্রাণ দুর্নীতি মামলায় জামিন, তবুও এখনই জেল মুক্তি নয় প্রাক্তন মন্ত্রীর উজ্জ্বল বিশ্বাসের, কেন?
News18 বাংলা | ০১ জুলাই ২০২৬
: নদিয়ার কৃষ্ণনগরের জেলা ও দায়রা আদালতে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার সংক্রান্ত মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাসকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিল আদালত। আজ মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা বিচারক সুজয় সেনগুপ্ত এই নির্দেশ দেন। মামলাটি কোতোয়ালি থানার ৬৫৯/২০২৬ নম্বর মামলার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ৯ জুন দায়ের হওয়া এফআইআরে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় এলাকার একটি লরিতে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই সামগ্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ ছিল এবং তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। শুনানিতে উজ্জ্বল বিশ্বাসের আইনজীবী দাবি করেন, ২ জুন নদিয়ার তৎকালীন এসডিও তাঁকে অবিতরিত ত্রাণ সামগ্রী ফেরত দিতে বলেন। পরবর্তীতে ৪ জুন অতিরিক্ত জেলাশাসক (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা) সমস্ত বিডিওকে সেই সামগ্রী সংগ্রহের নির্দেশ দেন। ১৬ জুন ধুবুলিয়া ব্লক-২ বিডিও-র একটি চিঠিতেও উল্লেখ করা হয়, ৯ জুন ওই ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণের জন্য গ্রুপ-ডি কর্মীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা পক্ষের আরও দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারের যথাযথ কারণও জানানো হয়নি। অন্যদিকে, অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, প্রাক্তন মন্ত্রী ত্রাণ সামগ্রী বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে আরও তদন্ত প্রয়োজন। সরকারি কৌঁসুলি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ৯ জুন এবং ১৩ জুনের বাজেয়াপ্ত তালিকার দিকে। তদন্তে সাক্ষীদের গোপন জবানবন্দিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তদন্তে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। নথিপত্র ও তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায় এই মুহূর্তে অভিযুক্তকে আরও হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি আদালত উল্লেখ করে, তদন্তে সহযোগিতা না করার কোনও অভিযোগও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনা হয়নি।
এরপর আদালত উজ্জ্বল বিশ্বাসকে ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং ৩০ হাজার টাকার টাউন-বেলে জামিন মঞ্জুর করে। তবে জামিনের সঙ্গে একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে প্রত্যেক শুনানির দিন আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে, কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত বা ভয় দেখানো যাবে না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং কৃষ্ণনগর পুরসভার এলাকা ছেড়ে যাওয়া যাবে না। তদন্তকারী অফিসার প্রয়োজনে তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শর্ত ভঙ্গ হলে জামিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। যদিও ত্রাণ দুর্নীতি মামলায় শর্ত সাপেক্ষ জামিন হলেও জেল মুক্তি হচ্ছে না প্রাক্তন মন্ত্রীর। ধুবুলিয়া থানার জমি সংক্রান্ত অপর একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই মামলার শুনানি আগামী ২ জুলাই। সেদিন ফের তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।