বাংলার অখ্যাত এই গ্রামে হয় রাজরাজেশ্বরীর মহাপুজো, ত্রিপুরার সঙ্গে রয়েছে গভীর টান
News18 বাংলা | ০১ জুলাই ২০২৬
মথুরাপুর তথা সুন্দরবনের সঙ্গে রয়েছে ‘ত্রিপুরা যোগ’। এই মথুরাপুরেই রয়েছে প্রাচীন ‘ত্রিপুরা সুন্দরী’ মন্দির। এই মন্দিরে বাৎসরিক মহামেলা শুরু হয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। জানা গিয়েছে, আজও সুন্দরবনের ‘ত্রিপুরাসুন্দরী’ এবং ত্রিপুরার ‘ত্রিপুরেশ্বরীর’ নাম একই সঙ্গে উচ্চারিত হয়। আগে ত্রিপুরার রীতি মেনে দেবীর পুজো হলেও পরবর্তী কালে ব্রাহ্মণ্য মতেই পুজো শুরু হয় এখানে। সাপ্তাহিক পুজো হলেও আষাঢ়ের পূর্ণিমা তিথির পুজো এখানে ধুমধাম করে পালিত হয়। একটা সময় এখানে জল জঙ্গলে ভর্তি ছিল। তার মাঝেই এখানে চলত পুজো। পরে ব্রিটিশ আমলে জঙ্গল হাসিলের সময় আটচালার মন্দির তৈরি হয়।
ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া সেই মন্দির ভেঙে পড়ার পর নতুন মন্দিরটি তৈরি হয় কয়েক বছর আগেই। তবে এবছর থেকে মন্দির একেবারে ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠেছে। সমস্ত পরিষেবা মিলবে সেখানে। ধর্মীয় রীতি বাদ দিলেও এই মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ‘কুব্জিকা তন্ত্র’ অনুয়ায়ী ত্রিপুরা সুন্দরীর এই মন্দির শক্তিপীঠের একটি। চৈতন্য মহাপ্রভু নীলাচলে যাওয়ার পথে ভক্তদের নিয়ে কয়েকদিনের জন্য এখানে এসেছিলেন। ত্রিপুরা রাজ্যের সর্বপ্রাচীন গ্রন্থ ‘রাজমালা’তে উল্লেখ রয়েছে এই মন্দিরের কথা। সেখানে রয়েছে রাজা যযাতির পুত্র দ্রূহ্যু পালিয়ে এসে কপিলমুনির আশ্রমে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। পরবর্তী কালে তাঁরই বংশধর প্রতদ্রন আবার কিরাত (অধুনা ত্রিপুরা রাজ্য) জয় করেন।
পরে তাঁর বংশধর কলিন্দ আদিগঙ্গা এবং ছত্রভোগ নদীর মাঝামাঝি এলাকায় ত্রিপুরাসুন্দরীর কাঠের বিগ্রহ-সহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কলিন্দের বেশ কয়েক প্রজন্ম পর বংশধররা কিরাত অর্থাৎ ত্রিপুরায় চলে যান পাকাপাকিভাবে। পিতৃপুরুষের আরাধ্য দেবীকে ত্রিপুরেশ্বরী নামে ত্রিপুরাতে প্রতিষ্ঠা করেন। ত্রিপুরা সুন্দরীর অনেক পরে ত্রিপুরেশ্বরীর পুজো শুরু হলেও এই দুই বিগ্রহকে একই দেবী বলে ধরা হয়। আর সেখান থেকে জুড়ে যায় ত্রিপুরার সঙ্গে সুন্দরবনের মথুরাপুরের এক গ্রাম কৃষ্ণচন্দ্রপুরের নাম। আজও জায়গাটি সারাবছর নির্জন স্থান হিসেবে পরিচিত।