• জুলাইয়েও বৃষ্টি না হলে কী হবে? বীরভূমের কৃষকদের জন্য বিকল্প পথের খোঁজ দিচ্ছে কৃষি দফতর
    News18 বাংলা | ০১ জুলাই ২০২৬
  • সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তীব্র রোদ। মাঝে মধ্যে আকাশের মুখ ভার হচ্ছে, তবে বৃষ্টির দেখা নেই। শুধুমাত্র মাঝে মধ্যে বৃষ্টির ছিটেফোঁটা শরীরে ক্ষণিকের শান্তি দিচ্ছে। খাতা কলমে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা ঢুকেছে বেশ কয়েকদিন হল, তবে চলতি মাসে দেখা দিলেন না বরুণ দেব। কৃষি দফতরের তরফ থেকে যে সূত্র পাওয়া গেছে সেই সূত্র বলছে ২৮ তারিখ পর্যন্ত গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৩.৫ মিলিমিটার। অথচ জুনে গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩৪.২ মিলিমিটার। সেই হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে স্বাভাবিকের মাত্র এক চতুর্থাংশ বৃষ্টি পেয়েছে জেলা।

    আর চলতি মাসে কম বৃষ্টিপাতের কারণে আমন ধান চাষ নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন বীরভূম জেলার কৃষকেরা। তবে কিন্তু জেলার সর্বত্র এক ছবি নয়। জেলার বেশ কয়েকটি ব্লক যেমন লাভপুর ২৫৩.৬ মিলিমিটার, মহম্মদবাজার ২৪২.২ মিলিমিটার, রাজনগর ১৯৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তথ্য বলছে প্রথম দু’টি ব্লকে ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অন্য দিকে মুরারই এক ব্লকে বৃষ্টি হয়েছে ৪৭.৮ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের ২০.৪ শতাংশ, ও সাঁইথিয়ায় বৃষ্টি হয়েছে ৯২.৬ মিলিমিটার।

    আগেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জুন মাসে ঠিক চলতি মাসের মতো বৃষ্টিপাত হয়েছিল বীরভূম জেলা জুড়ে। এর ফলে আমন ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল কৃষকদের। গত বছরও বর্ষা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি আমন ধানের চাষ। চলতি বছর আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় তিন হেক্টর, তবে এই বছর বৃষ্টি নেই। ফলে কী হবে ভেবে পাচ্ছেন না কেউ। মূল চিন্তার কারণ ধানের বীজতলা। এই সময়টায় শুকনো বা ধুলো বীজতলা তৈরি হয়েছে।

    কিছু ব্লকে জলটান শুরু হয়েছে বীজতলায়। ভিজে বীজতলা তৈরি সে ভাবে শুরু হয়নি অধিকাংশ ব্লকেই। জেলা কৃষি দফতরের এক আধিকারিক বলেন, এই মুহূর্তে হতাশ হওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। এখনও সময় আছে। তবে, জুলাইয়েও বৃষ্টি ঘাটতি হলে অনেকটা অসুবিধা হতে পারে কৃষকদের। তবে সেই ক্ষেত্রে বিকল্প পথও খোলা রয়েছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)