তমলুক পুরসভায় ফের চেয়ারম্যানের ইস্তফা, চার বছরে তৃতীয় পরিবর্তন
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ জুলাই ২০২৬
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ফের একবার নেতৃত্বে বদলাল তমলুক পুরসভায়। সোমবার বোর্ড মিটিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহার ইস্তফাপত্র। ২০২২-এ পুরসভা নির্বাচনের পর এই নিয়ে তমলুক পুরসভায় তিন জন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
২০২২-এ তমলুক পুরসভা নির্বাচনে ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে জয়ী হয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়। কিন্তু ২০২৫-এর ১১ নভেম্বর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি এবং ভাইস চেয়ারম্যান লীনা মাভৈ রায় পদত্যাগ করেন। এরপর রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল খাঁড়াকে এক মাসের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পরেও তিনি দায়িত্বে বহাল থাকায় বিষয়টি গড়ায় আদালতে। তৃণমূলের সাসপেন্ড হওয়া কাউন্সিলর পার্থসারথি মাইতি এবং বিজেপি কাউন্সিলর জয়া দাস নায়েক ও শবরী চক্রবর্তী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত জানায়, চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে হয়নি এবং এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলরদের ভোটে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ মেনে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কাউন্সিলরদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বৈদ্যনাথ সিনহা চেয়ারম্যান এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুফিয়া বেগম ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন বৈদ্যনাথ।
সোমবারের বোর্ড মিটিংয়ে বৈদ্যনাথের ইস্তফা গৃহীত হয়। ওই বৈঠকে ১৬ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। পদত্যাগের পর বৈদ্যনাথ বলেন, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম, মানসিক চাপও ছিল। ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারছিলাম না। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনসমর্থনের ছবিও বদলেছে। তাই এই পদে থাকা আর উচিত বলে মনে করিনি। সে কারণেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।’ তবে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত খারিজ করে করে দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি কাউন্সিলর তথা বিরোধী দলনেত্রী জয়া দাস নায়েক জানান, চেয়ারম্যান আগেই লিখিত ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে। তমলুক পুরসভার এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।