• এবার বারাসত পুরসভাতেও কাউন্সিলরদের গণপদত্যাগের সম্ভাবনা! জোর জল্পনা
    প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে সরকার বদলের পর একের পর এক তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় ভাঙনের আবহ। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বারাসত পুরসভাতেও গণপদত্যাগের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর এবার তৃণমূলের প্রায় সব কাউন্সিলরই ইস্তফা দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি! সেই সম্ভাবনা বাস্তব হলে উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পুরবোর্ড কার্যত ভেঙে পড়বে।

    সূত্রের খবর, ৩৫ ওয়ার্ডের পুরসভায় তৃণমূলের ৩০ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। পরে নির্দল থেকে নির্বাচিত আরও দু’জন কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই বৃহস্পতিবারের মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। ইতিমধ্যেই চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান তাপস দাশগুপ্ত, প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কাউন্সিলর অশনি মুখোপাধ্যায়, চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সদস্য অভিজিৎ নাগ চৌধুরী ও পান্নালাল বসু, কাউন্সিলর দেবব্রত পাল, ডা. বিবর্তন সাহা, দীপক দাশগুপ্ত এবং চৈতালি ভট্টাচার্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এনিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করেন সুনীল মুখোপাধ্যায়।

    তিনি দাবি করেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে আমাদের দলের প্রায় সব কাউন্সিলরই পদত্যাগ করবেন।” তাঁর আরও দাবি, নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন অনেক কাউন্সিলর নিয়মিত পুরসভায় আসছিলেন না। ফলে ৩৫টি ওয়ার্ডের প্রশাসনিক দায়িত্ব কার্যত তাঁর একার কাঁধেই এসে পড়েছিল। তবে কাউন্সিলররা সরে দাঁড়ালেও প্রশাসক বা এক্সিকিউটিভ অফিসারের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এদিকে, বারাসতের এই পরিস্থিতিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই দেখছে গেরুয়া শিবির। কটাক্ষ করে বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি শুভঙ্কর সেন জানিয়েছেন, “এটা তো সবে শুরু। বারাসত সংসদীয় এলাকার একের পর এক পুরসভায় এমন পরিস্থিতি অনিবার্য।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। বারাসতের পর হাবড়া, অশোকনগর সহ বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের আরও কয়েকটি পুরসভাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)