কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলা থেকে সরলেন বিচারপতি, আরও বিপাকে অভিষেক!
প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলায় হস্তক্ষেপ করলেন না হাই কোর্টের বিচারপতি। মামলা থেকেই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ফলে আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এদিন অভিষেকের আইনজীবীকে বিচারপতির একাধিক প্রশ্নের সামনে পড়তে হয়। ভোটের প্রচারে ডিজে বাজানো মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর বিতর্ক। থানায় অভিযোগও দায়ের হয়। ওই মন্তব্যের ঘটনায় তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চায় সিআইডি। আজ, মঙ্গলবার সেই কণ্ঠস্বর রেকর্ড করার কথা ছিল।
কণ্ঠস্বর নমুনা পরীক্ষায় পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta HC) দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি কোশিক চন্দ ওই মামলা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। গতকাল, সোমবার মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল বিচারপতি কৌশিক চন্দ এজলাসে বসেননি। দ্রুত শুনানির জন্য বিকল্প এজলাস খুঁজেছিলেন অভিষেকের আইনজীবীরা। আজ, মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই মামলা ওঠে। কিন্তু সেখানে আরও অস্বস্তি বাড়ল অভিষেকের।
এদিন বিচারপতির প্রশ্ন, তদন্তকারী সংস্থা কীভাবে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। আদালত কেন হস্তক্ষেপ করবে? সেক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সওয়াল করেন, “আমি তো স্বীকার করছি যে কণ্ঠস্বর আমার মক্কেলের।” সেই সওয়ালে বিচারপতির পালটা প্রশ্ন, “যদি কণ্ঠস্বর আপনার মক্কেলের হয়, তাহলে পুলিশের কাছে গিয়ে আবার কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে অসুবিধা কোথায়?” এরপরই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মামলায় হস্তক্ষেপ না করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। জানিয়ে দেন, এফআইআর খারিজের মামলা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে। সেজন্য এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি ঘোষ। ফলে এই মামলা ফেরত যাবে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের মন্তব্য, “এই মামলা ইতিমধ্যে অন্য এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে। সেখানে গিয়ে যা বলার বলুন।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর সওয়াল, “আদালত এই শর্তে রক্ষাকবচ দিয়েছিল যে আমি তদন্তে সহযোগিতা করব। এখন কণ্ঠস্বর না দিলে তো পুলিশ অসহযোগিতার অভিযোগ করবে।”