রাষ্ট্রপতি সফরে প্রোটোকল ভঙ্গ, অভিযুক্ত আমলাকে ‘রিলিজ’ নবান্নের
প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তাঁদের দিল্লিতে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু রাজ্যের তৎকালীন তৃণমূল সরকার এই দুই আমলাকে ‘রিলিজ’ করেনি। ফলে তাঁদের দিল্লিতে যোগদান সাময়িকভাবে থমকে যায়। রাজ্যে পালাবদলের পরে রিলিজ দেওয়া হল আইপিএস সি সুধাকরকে। নবান্ন সূত্রে সেই কথা জানানো হয়েছে। রাজ্যের তরফে আগেই রিলিজ অর্ডার দেওয়া হয়েছে মণীশ মিশ্রকে।
তৃণমূল জমানায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর রাজ্য সফরে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল। শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত মার্চ মাসে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেখানেই প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল। এরপরই প্রোটোকলের পালনের দায়িত্বে থাকা শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে দিল্লিতে তলব করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্যের তৎকালীন তৃণমূল সরকার এই দুই আমলাকে রিলিজ করেনি। ফলে তাঁদের দিল্লিতে যোগদান সাময়িকভাবে থমকে যায়। রাষ্ট্রপতি মুর্মুর ওই ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর সওয়াল উঠেছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাষ্ট্রপতিতে অপমান করেছেন, সেই অভিযোগ বিজেপির তরফে করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছিলেন। এবার বিধানসভা নির্বাচনেও সেই ঘটনা বিজেপির প্রচারের ইস্যু হয়েছিল। রাজ্যে নির্বাচনী সফরে এসে নরেন্দ্র মোদি, অমত শাহ এই ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছিলেন। ওই ঘটনার পরই রাষ্ট্রপতির প্রোটোকলের দায়িত্বে থাকা শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে দিল্লিতে তলব করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেসময় নবান্ন তাঁদের ছাড়েনি।
নবান্ন সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগে রিলিজ দেওয়া হয়েছে সি সুধাকরকে। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৬ ব্যাচের আইপিএস সি সুধাকরকে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সিআরপিএফ-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) পদে যোগ দেবেন। আগেই রিলিজ অর্ডার দেওয়া হয়েছে মণীশ মিশ্রকে।