• বিল পাশের অঙ্কে পিছোতে পারে মন্ত্রিসভার রদবদল?
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গত দু’সপ্তাহ ধরেই দিল্লিতে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছিল৷ বিভিন্ন সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই করা হতে পারে এই রদবদল৷ এই আবহেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে সম্ভাব্য সম্প্রসারণ পিছিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে৷ পরিবর্তিত আবহে সরকারি সূত্রের দাবি, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল না-ও করা হতে পারে৷ তার পরিবর্তে রদবদল করা হতে পারে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় এবং অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে৷ কেন পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে মন্ত্রিসভার রদবদল? সরকারি সূত্রের দাবি, সংসদের বাদল অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ এই আবহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল করে সরকারের অন্দরের ভারসাম্য নিয়ে কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার কথাই ভাবছে সরকারের শীর্ষ স্তর৷ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে সরকারের শাসক দল তো বটেই বিরোধী শিবিরের বিদ্রোহী সাংসদদের কী ভূমিকা থাকে, তা দেখার পরেই মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে এগোনো হবে বলে সরকারি সূত্রের দাবি৷

    সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ব্যাপারে বেশি আগ্রহী কেন্দ্রের শাসক দল। আপাতত তা নজরে রেখেই পা ফেলা হচ্ছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার লক্ষ্যে গত এপ্রিল মাসে (দেশের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোটের আবহে) সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশ করানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল শাসক শিবির। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনের নামে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের কৌশল নিয়েছে সরকার, এই অভিযোগ তুলে বেঁকে বসেন বিরোধীরা। সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পিছু হটতে বাধ্য হয় মোদী সরকার, যা তাদের কাছে বড় ধাক্কা ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মত। এ বার যাতে সে রকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়, আপাতত তা নিশ্চিত করাই সরকার পক্ষের একমাত্র লক্ষ্য।

    সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, এই সময়ে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলে যাঁরা মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়বেন, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মাতে পারে। তার অভিঘাত সংসদে বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে পড়তে পারে। বরং যদি মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়টি পিছিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে বিলের পক্ষে বেশি সমর্থন জোগাড়ের রাস্তা খোলা থাকে। মন্ত্রিসভার রদবদল ঘটিয়ে আপাতত কাউকে চটানোর পক্ষপাতী নয় শাসক শিবির। সেই কারণে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহলের একাংশ।

    পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে, এই দাবির ক্ষেত্রে আরও একটি ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে সরকারি সূত্রে৷ ১-৩ জুলাই পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজস্থান সফরের কর্মসূচি রয়েছে। ৬ থেকে ১১ জুলাই তিনি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জ়িল্যান্ড সফরে থাকবেন। এর ফলে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে হাতে থাকছে কেবল ৫ জুলাইয়ের দিনটি। এমনকী ২০ জুলাইয়ের আগে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হলেও, নতুন মন্ত্রীদের হাতে অধিবেশনের প্রস্তুতির জন্য খুবই কম সময় থাকবে। যদিও অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই রদবদলের নজির রয়েছে মোদী জমানায়। ২০২১ সালের ৭ জুলাই মন্ত্রিসভার রদবদল ঘটিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই সময়ে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছিল রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং প্রকাশ জাভড়েকরের মতো নেতাদের। তবে এ বারের পরিস্থিতি আলাদা, সে কথাও মেনে নিচ্ছেন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের বিষয়টি। তা নজরে রেখেই সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।

    এই জল্পনা এবং পাল্টা জল্পনার আবহে মঙ্গলবার দিল্লিতে সব মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কিছুদিন আগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের পরে এ দিন কেন্দ্রীয় সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটিকে অনেকেই ‘পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড অ্যাপ্রেইজ়াল’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করছেন৷ সরকারি সূত্রের দাবি, আগামী দিনে সব মন্ত্রকের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত৷ সূত্রের দাবি, এ দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ‘টিম ইন্ডিয়া’র মতোই একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হবে, কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না৷ ২০৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার শতবর্ষের আগে যে ভাবে সম্পূর্ণ ভাবে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে মোদী সরকার, সেখানে পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন না করতে পারলে ভালো কাজ করা সম্ভব নয়, সব মন্ত্রকে কর্মরত অভিজ্ঞ সচিবদের জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

  • Link to this news (এই সময়)