৯০ বছরের বৃদ্ধা শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ উঠল বৌমার বিরুদ্ধে। খড়্গপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের খরিদা বাজার এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মারধরের ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অভিযুক্ত বৌমা সুনীতা দেবীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় থানায়। এর পরেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনীতাকে গ্রেপ্তার করে খড়্গপুর মহিলা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পারিবারিক অশান্তির জেরে প্রায়ই বৃদ্ধা শাশুড়িকে মারধর করতেন সুনীতা। এই নিয়ে অনেক বার তাঁকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি বলেই অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বোঝাতে এলে উল্টে তাঁদের উপরেই চোটপাট করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু মারধরের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিছানায় কুঁকড়ে শুয়ে রয়েছেন ৯০ বছরের এক বৃদ্ধা। আর তাঁকে ঝাঁটা দিয়ে মারছেন এক মহিলা। অভিযোগ, তিনিই সুনীতা। বৃদ্ধা হাত তুলে কোনও রকমে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু তাতে লাভ হচ্ছে না কিছুই। ঘটনা দেখে জা-কে থামাতে গিয়েছিলেন বাড়ির আর এক বৌমা। এতে হিতে বিপরীত হয়। তাঁকেও সুনীতা মারধর করেন বলে অভিযোগ। তিনিই শাশুড়িকে ঝাঁটা মারার ভিডিয়ো তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দেন।
ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্তে নামে খড়্গপুর মহিলা থানার পুলিশও। এর পরেই সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুনীতাকে। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন খড়্গপুরের সাধারণ মানুষও।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর মহিলা থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।