• রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী কেন্দ্র, জানালেন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব
    eTV Bharat | ৩০ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 30 জুন: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুন্দরবনে বিপুল সংখ্যক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অংশ এই প্রজাতির বাঘের সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।

    মঙ্গলবার ধনধান্য স্টেডিয়ামে জেডএসআই (জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া) 111তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান ছিল৷ সেই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। সেখানেই তিনি এই দাবি করেন৷

    এদিন ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, ‘‘ভারত সরকার এখন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে দেশের জন্য একই ধরনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শের মাধ্যমে, বাংলার উপযুক্ত ভূখণ্ডে বাঘের পুনঃপ্রবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা উভয়কেই শক্তিশালী করবে। এই সাফল্য একটি বৃহত্তর জাতীয় রূপান্তরের অংশ।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘2014 সাল থেকে ভারতে বাঘ সংরক্ষণাগারের সংখ্যা 47 থেকে বেড়ে 58 হয়েছে। যা দেশের সংরক্ষণ নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করেছে। 2015 সালে এশীয় বাঘের সংখ্যা 523 থেকে বেড়ে 2026 সালে 891 হয়েছে। যা নিবদ্ধ সংরক্ষণ প্রচেষ্টার কার্যকারিতার প্রতিফলন।" রামসার সাইটের সংখ্যাও বিপুল হারে বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    নিজের সংসদীয় এলাকার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘‘নষ্ট হতে থাকা বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, গ্রিন ক্রেডিট প্রোগ্রাম, অথবা জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, ভারত এমন এক উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠেছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই। সংরক্ষণের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার কেবল আমাদের নীতিতেই নয়, পরিমাপযোগ্য ফলাফলের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘গত সপ্তাহেই আমরা সারিস্কায় সফলভাবে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের 18 বছর পূর্তি উদযাপন করেছি। এই ভূখণ্ডটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। কারণ, এটি আমার সংসদীয় দায়িত্বের আওতায় পড়ে। আজ সারিস্কা একটি শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে যে, কোনও বাঘ না থাকা অবস্থা থেকে টেকসই বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার কী অর্জন করতে পারে। এই অভয়ারণ্যটিতে এখন 56টি বাঘের আবাসস্থল, যা এটিকে ভারতের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক সংরক্ষণ সাফল্যের গল্পে পরিণত করেছে।"

    এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেডএসআই এবং বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (বিএসআই) দ্বারা যৌথভাবে সংকলিত ‘অ্যানিমেল ডিসকভারিজ–2025’ এবং ‘প্ল্যান্ট ডিসকভারিজ–2025’ প্রকাশ করেছেন। ‘অ্যানিমেল ডিসকভারিজ–2025’ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে, জাতীয় ডেটাবেসে 709টি নতুন প্রাণীর রেকর্ড যুক্ত হয়েছে।

    যার মধ্যে বিজ্ঞানের দিক সম্পূর্ণ নতুন 483টি প্রজাতি এবং ভারতে প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত 226টি প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে, ভারতের মোট প্রাণী জীববৈচিত্র্য এখন 1 লক্ষ 5 হাজার 953 প্রজাতিতে দাঁড়িয়েছে। যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান মেগাডাইভার্স দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নতুন আবিষ্কারের আঞ্চলিক বিভাজন: রাজ্য অনুযায়ী নিবন্ধিত নতুন প্রজাতির সংখ্যা - কেরালা 98 (দেশব্যাপী সর্বোচ্চ), পশ্চিমবঙ্গ 76, কর্নাটক 67 ও অরুণাচল প্রদেশ 65.

    এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পেপার, বই উন্মোচন করেন। যার মধ্যে রয়েছে:

    1. অ্যাবস্ট্র্যাক্ট বুক: অ্যানিমেল ট্যাক্সোনমি সামিট 2026 (দ্বিভাষিক: ইংরেজি ও হিন্দি)
    2. রেকর্ডস অফ দ্য জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (বিশেষ সংখ্যা: এটিএস 2026)
    3. ফনা অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল
    4. জীব দর্পণ
    5. ফনাল ডাইভারসিটি অফ ড্রাই ডেসিডুয়াস ফরেস্টস অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল
    6. ফনাল ডাইভারসিটি অফ প্রোটেক্টেড এরিয়াস অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল (বেথুয়াডহরি, বিভূতিভূষণ, রামনবাগান, বল্লভপুর এবং রায়গঞ্জ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য-সহ)

    উল্লেখ্য, জেডএসআই ভারত সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়। যা 1916 সালে প্রতিষ্ঠিত। যার সদর দফতর কলকাতায়। প্রাণীজগতের গবেষণার জন্য দেশের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে, জেডএসআই শ্রেণিবিন্যাসগত অগ্রগতিকে চালিত করে চলেছে। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, বিশেষ অতিথি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থমন্ত্রী পদ্মভূষণ ড. স্বপন দাসগুপ্ত এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ প্রমুখ।
  • Link to this news (eTV Bharat)