আমের জেলা মালদার আশাপুর বেগুন পেল জিআই ট্যাগ, উচ্ছ্বসিত প্রশাসন
eTV Bharat | ৩০ জুন ২০২৬
মালদা, 26 জুন: আমের জেলা মালদায় জিআই ট্যাগ পেল ‘আশাপুর বেগুন’৷ মঙ্গলবার এই খবর জানিয়েছেন জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর৷ এই প্রজাতির বেগুন জিআই ট্যাগ পাওয়ার ফলে চাঁচল এলাকার চাষিদের আর্থিক উন্নতি হবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন৷
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আশাপুর বেগুনকে ক্লাস 31 (বেগুন)-এর অধীনে জিআই নম্বর 992-এর মাধ্যমে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন হিসাবে নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে৷ গত 27 মার্চ চেন্নাই থেকে এই জিআই সনদটি ইস্যু ও সিলমোহর করা হয়৷ এর ফলে মালদা জেলার এই কৃষি পণ্যটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা লাভ করল৷ জানা যাচ্ছে, আশাপুর বেগুনের নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী হল আশাপুর ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল গ্রোয়ার্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংস্থা৷
চাঁচল এলাকাটি মালদা জেলার উত্তর প্রান্তে৷ পাশেই রয়েছে উত্তর দিনাজপুর৷ সেখানকার বিঘোরের বেগুন যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছে৷ মালদার পলিয়া বেগুনও রাজ্যবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়৷ যা সাধারণভাবে নবাবগঞ্জের বেগুন নামে পরিচিত৷ কিন্তু মালদাবাসীর কাছে আশাপুর বেগুনের একটা আলাদা জায়গা রয়েছে৷ অত্যন্ত নরম, খুব কম বীজ থাকা এই প্রজাতির বেগুন শীতকালে মালদাবাসীর কাছে ভীষণ পছন্দের৷ ভাজা, সিদ্ধ কিংবা তরকারি রান্নায় এর জুড়ি মেলা ভার৷
দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর মালদার বেগুনচাষিরা আশাপুর বেগুনের জিআই ট্যাগ পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন৷ তাঁদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে এগিয়ে এসেছিল মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ৷ সংগঠনের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আশাপুর বেগুনের জিআই ট্যাগ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম৷ এর জন্য জেলা উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল৷ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা কলকাতায় থাকা ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরিডিক্যাল সায়েন্সের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করেন৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘অবশেষে সেই চেষ্টার সুফল মিলেছে৷ এবার আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আশাপুর বেগুনের বাজার পরিচিতি ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে৷ চাষিরা উৎপাদিত ফসলের নায্যমূল্য পাবেন৷ সবচেয়ে বড় কথা, দেশ ও বিদেশের বাজারে আশাপুর বেগুনের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে৷ তাতে আখেরে উপকৃত হবেন এই প্রজাতির বেগুনচাষিরা৷”
অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) শ্রীনিবাস পাতিল বলেন, “জেলা প্রশাসন আশাপুর বেগুনের ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের জন্য একটি সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে৷ একই সঙ্গে এই বেগুনের প্যাকেজিং ও গুনমান সংক্রান্ত মানদণ্ড বিষয়ে কৃষক ও উৎপাদক গোষ্ঠীগুলির জন্য সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে৷ বিভিন্ন মেলা, প্রদর্শনীতে এই বেগুন উপস্থিত করা হবে৷ এছাড়াও ফার্মার প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন তৈরি করে বেগুনচাষিদের উৎসাহ প্রদান করা হবে৷”
জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, “আশাপুর বেগুনের জিআই স্বীকৃতি জেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়৷ এর ফলে চাঁচল 1 ব্লক ও সংলগ্ন এলাকার কৃষকরা এই প্রজাতির বেগুন চাষে উৎসাহ পাবেন৷ ভবিষ্যতে এই বেগুন তাঁদের সুফল বয়ে আনবে৷”