এই সময়: তৃণমূল আমলের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট দুর্নীতি। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল জমানায় যাঁরা ভুয়ো শংসাপত্র দিয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে সেই শংসাপত্র যাঁরা নিয়েছেন, গ্রেপ্তার করা হবে তাঁদেরও।
সোমবার বিধানসভায় নতুন ওবিসি সংরক্ষণ বিল পাশ হয়েছে। তাতে তৃণমূল জমানায় চালু হওয়া ওবিসি-দের ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ ফের ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই আবহে মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় হুল দিবসের সভা থেকে শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে তদন্তে কোনও নথি ভুয়ো প্রমাণিত হলে দাতা এবং প্রাপক— দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, তৃণমূল আমলে যত জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, সবই যাচাই করা হবে। বিশেষ করে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির থেকে যাঁদের এক সপ্তাহের মধ্যে বা তারও কম সময়ে এই ধরনের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, প্রথম দফায় সেগুলিকেই স্ক্যানারের নীচে আনা হচ্ছে।
রাজ্যে ওবিসি, এসটি-এসসি সার্টিফিকেট নিয়ে তৃণমূল আমলে বড় দুর্নীতি হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। এ দিন বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরের অনুষ্ঠান থেকে জাতিগত শংসাপত্রের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বঞ্চিত করে আদিবাসী বা তফসিলি জনজাতির শংসাপত্র অযোগ্যদের দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই আমলে সে সব আর হবে না। আপনাদের প্রাপ্য আপনারা পাবেন। যাঁরা আপনাদের বঞ্চিত করে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়েছেন এবং যাঁরা তা দিয়েছেন, দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হবে।’
নবান্ন সূত্রে খবর, এ নিয়ে তদন্তের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। দেখা গিয়েছে, যে সব ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির বিভিন্ন বুথ এলাকায় হয়েছিল, সেখান থেকে প্রচুর জাতিগত শংসাপত্র বিলি হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও রকম যাচাই বা ভেরিফিকেশন হয়নি। জাতিগত শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচুর ঝক্কি আছে বলে সাধারণ নাগরিকরা অনেক সময়ে অভিযোগ করতেন। কিন্তু তৃণমূল জমানায় সেই প্রক্রিয়া সরল করতে গিয়ে সরকারি যে নিয়ম রয়েছে, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানা হয়নি বলে মত প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের। সেই ফাঁক গলে অনেকে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নথিপত্র যাচাই হওয়ার সঙ্গে আবেদনকারীর এলাকায় গিয়ে সরকারি আধিকারিকদের শুনানি করতে হয়। তবে তৃণমূল জমানার বিশেষ করে শেষের দিকে এই শুনানি প্রক্রিয়া বাদই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।