• পাহাড়ি রাস্তায় বিক্রেতাহীন দোকান, বিশ্বাসে ভর করেই চলছে বিকিকিনি
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
  • অলকাভ নিয়োগী, মককচুং (নাগাল্যান্ড): ঘন সবুজের জঙ্গল। দিনের বেলাতেও ঝিঁ ঝিঁর শব্দে কান পাতা দায়। পাহাড়ের মাঝখানে কালো চকচকে রাস্তা। দু-ধারে ছোটো ছোটো ‘কুঁড়েঘর’! চওড়ায় ৫-৬ ফুট। পুরোটাই বাঁশের কাঠামো। উচ্চতাও বেশি নয়। ফুট পাঁচেক। উপরে পাতার ছাউনি। কাছে গেলেই দেখা যাবে, সেই ঘরের ভিতর নামানো শাক-সবজি, ফল-মূল। তার উপর দড়ি দিয়ে ঝুলছে প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা প্রতিটি আনাজের দাম। আসলে এইগুলি দেখতে কুঁড়েঘর হলেও সবই দোকান। তবে, এখানে বিক্রেতা নেই! আনাজের পাশে প্লাস্টিকের কৌটো, কোথাও আবার কাঠের ছোট্ট বক্স। ক্রেতারা আসছেন। মনের মতো জিনিসপত্র কিনছেন। কৌটোয় দাম বা টাকা রেখে দিব্যি চলে যাচ্ছেন নিজের গ্রামে। কোনো বিদেশ-বিভুঁইয়ের গল্প নয়—এ দৃশ্য নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে। বছরের পর বছর বিশ্বাসের উপর ভর করেই চলছে বিকিকিনি।

    মককচুং থেকে টুলি যাওয়ার পথেই ঘন জঙ্গল। ওক, গামার, সেগুন তো আছেই। সঙ্গে কোকো, তুলডা, পেক নানা প্রজাতির বাঁশবন। সেই বাঁশ থেকেই তৈরি হয়েছে দোকানঘর। কিছুটা ভিতরের দিকে রডোডেনড্রন। ঘন ঘন পাহাড়ি বাঁক। সঙ্গে চড়াইউতরাই। তবে, রাস্তা চওড়া, মসৃণও। লংপা গ্রামের ঠিক আগেই চোখে পড়ল বিক্রেতাহীন দোকানের। ঘন জঙ্গলেই থামল গাড়ি। দোকানে কী কী পাওয়া যায়? চালক বললেন, নেমেই দেখুন। কোনো দোকানে রাখা পাহাড়ি ফল। কোনো দোকানে সবজি। টাটকা নানা ধরনের পাহাড়ি শাক, কুমড়ো, স্কোয়াশ, কাঁচকলাসহ প্রায় সবই। প্যাকেটে করে বিক্রি হচ্ছে কচুশাকের শুকনো পাতায়। কুচিকুচি করে কাটা। সেগুলি তরকারিতে দেওয়া হয়।

    কিছুক্ষণ দাঁড়াতেই দেখা গেল এক ক্রেতাকে। দুই আঁটি শাক কিনে কৌটোয় টাকা রেখে চলে গেলেন। কিছু উপরের দিকে একটি দোকান কৌটোর আধুনিকীকরণ করেছে। সেখানে ঝুলছে কিউআর কোডও। ডিজিটাল লেনদেন। বাসিন্দাদের কথায়, মককচুং-টুলির রাস্তায় লংপা, ইয়ামচালু সুংখুম, মেরাংকং, আসংমা, কিলেংমেন, খানিমো, লংজাং, চামি, সুংগ্রাৎসু, ইমপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁরাই ক্রেতা। যাঁরা বিক্রেতা, তাঁদের অবশ্য চোখে দেখা যায় না। তিনি কখনোসখনো আসেন। নতুন আনাজ-ফল রাখেন। তারপর চলে যান। কৌটো খুলে নিয়ে যান নিজের দোকানের রোজগার।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)