রানওয়ে সম্প্রসারণ সহ পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর, বড় উড়ানের আশায় কোচবিহারবাসী
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কোচবিহার বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি রাখা হয়েছে। তাই এখন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন কোচবিহারবাসী। খুশি এয়ারপোর্ট অথরিটিও।
কোচবিহার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ জন্য দীর্ঘদিন আগে রাজ্যেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটি কার্যকর হলে এই বিমানবন্দরে ৯ আসনের পরিবর্তে ৪২ আসনের বিমান নামা সম্ভব হবে। এবার বাজেটে এখানকার বিমানবন্দরের বিষয়টি ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রসঙ্গটি ফের চর্চায় এসেছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন এক কিমির মতো রানওয়ে। রানওয়েটি আরও ৪০০ মিটার বৃদ্ধি করলে এবং একটি কালভার্ট নির্মাণ করলে ৪২ আসনের বিমান নামা সম্ভব হবে। এরজন্য মরা তোর্সার ওপর বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা যেতে পারে।
বর্তমানে ১৭৪ একর জমির ওপর কোচবিহার বিমানবন্দর। রাজ আমলের এই বিমানবন্দরের সঙ্গে কোচবিহার জেলাবাসীর ভাবাবেগ জড়িত। রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকার সময় এখানে ৯ আসনের একটি বিমান চলাচল করত। বছর তিনেক বিমানটি কোচবিহার-কলকাতার মধ্যে নিয়মিত চলাচল করায় এর জনপ্রিয়তা এবং টিকিটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিমান চলাচল প্রথমে অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধই হয়ে যায়। ফলে কোচবিহার-কলকাতার মধ্যে বিমান চলাচলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত কোচবিহারবাসী।
আগেই এখান থেকে বিমান চলাচল নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানা চলেছে। শেষ পর্যন্ত একটি সংস্থা এখানে উড়ান প্রকল্পের মাধ্যমে বিমান চালানো শুরু করে। কিন্তু শেষের দিকে তা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। তখন থেকেই কথা উঠতে শুরু করে, কোচবিহার থেকে ৪২ আসনের একটি বিমান চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ২০১৭-’১৮ সালে এখানে রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য সমীক্ষা হয়। তাতেই উঠে এসেছিল, বিমানবন্দরের রানওয়ে আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। যার জন্য সেই সময় প্রায় দেড়শো কোটি টাকা প্রকল্প খরচ ধরা হয়েছিল।
কোচবিহার বিমানবন্দরের ডিরেক্টর শুভাশিস পাল মঙ্গলবার বলেন, বাজেটের পর থেকে আমরা আশায় রয়েছি এই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ সহ অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজ হবে। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে সেরকম কিছু দেখছি না। আমরা ১৩ জন স্থায়ী কর্মী বিমান ওঠা-নামার জন্য সবদিক প্রস্তুত রাখছি। • ফাইল চিত্র।