• সেভক রোডে জুয়েলারি দোকানে লুটের চেষ্টায় ধৃত ২, যোগ মতিহারি গ্যাংয়ের
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি শহর ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীদের ‘টার্গেট’ এখন। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি থেকে বিহার একের পর এক ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীর নিশানায় এই মেট্রোপলিটন সিটি। এটিএম লুট, জুয়েলারি দোকানে দিনে-দুপুরে ডাকাতি থেকে শুরু করে ছিনতাই, একের পর এক ঘটনায় উঠে আসছে ভিনরাজ্যের অপরাধীদের নাম। সোমবার গভীর রাতে সেভক রোডে জুয়েলারি দোকানে লুটপাটের চেষ্টায় গ্রেপ্তার হয় বিহারের দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের দুই সদস্য। 

    উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি শহরের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কখনো ট্রেন, আবার কখনো সড়কপথে দুষ্কৃতীরা চলে আসছে এখানে। কয়েকদিন থেকে রেকি চালিয়ে অপারেশন করে গা ঢাকা দিচ্ছে। যাদের ধরতে পুলিশের টিমকে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পাকড়াও করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীরা অধরা থেকে যাচ্ছে। 

    সোমবার গভীর রাতে সেভক রোডের একটি জুয়েলারি দোকানে ঢুকে লুটের চেষ্টার ঘটনায় দু’জন ধরা পড়ার পর ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতী যোগ থাকার বিষয়টি ফের প্রমাণিত হল। এবার নাম উঠেছে বিহারের মতিহারি দলের। ওই রাতে দোকানের শাটার ভেঙে লুটপাটের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু দোকানে থাকা এআই ক্যামেরার পাঠানো নোটিফিকেশন কর্ণধারের মোবাইলে যাওয়ার পর তড়িঘড়ি তিনি ভক্তিনগর থানায় খবর দেন। পুলিশ ভ্যান পৌঁছে দু’জনকে ধরে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম গৌতম কুমার ও ধর্মেন্দ্র সাহানি। বাড়ি মতিহারির পূর্ব চম্পারনে। 

    যদিও তাদের এক সঙ্গী পুলিশের হাত ফসকে পালায়। মুজাফ্‌ফপুর থেকে ট্রেনে চেপে এরা সোমবার ভোরে এনজেপি স্টেশন নেমেছিল। দিনে রেকি করে। রাতে সেভক রোডের একটি হোটেলে খায়। খানিকটা মদ্যপানও করে। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ জুয়েলারি দোকানের শাটার ভেঙে লুটের চেষ্টা করে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দোকানের কর্ণাধারের মোবাইলে নোটিফিকেশন যায়। তিনি অ্যাপ খুলে ক্যামেরার ফুটেজে দেখেন দোকানের ভিতরে কয়েকজন। পুলিশ এসে দোকানের বাইরে থেকে একজনকে এবং ভিতর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পুলিশ অফিসারদের প্রাথমিক অনুমান, স্থানীয় কোনো মাথা জড়িত আছে। 

    এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি (পূর্ব) রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার তদন্ত করছি। এর বেশি আর কিছুই বলা এখনই সম্ভব নয়। • ধৃতদের নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)