• হুমায়ুনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া পুলিশ ,দুই থানায় হাজিরার নোটিস • ধৃত ৩ অনুগামী
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: হুমায়ুন কবিরের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সোমবার বিধানসভায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়ে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর রাত থেকেই মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করল পুলিশ। হুমায়ুন রেজিনগরের যে সভায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তার অন্যতম আয়োজক আমিনুল হক এবং গোলাম শেখকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির অঞ্চল সভাপতি গোলামকে রাতেই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দু’জনকে বহরমপুর আদালতে তুলে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। একই অভিযোগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সহ সভাপতি আনিসুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করেছে শক্তিপুর থানার পুলিশ। তাঁকেও হেপাজতে নেওয়া হয়েছে।

    এবার বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা বিধানসভা থেকে জয়লাভ করেছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন। রেজিনগর আসনে পদত্যাগ করায় উপনির্বাচন হবে।  তার আগে রেজিনগরের কাশীপুরের এক সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন হুমায়ুন। তিনি দাবি করেছিলেন, মুর্শিদাবাদে কিছু বিজেপি নেতা পরাজিত হয়েও অযথা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে একজোট করার কথা বলেন, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে তাতেও তিনি ভীত নন বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এরপর শক্তিপুরের আর একটি সভায় হুমায়ুন স্থানীয় এক পুলিশ আধিকারিকের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ভোটের আগে তাঁর আত্মীয়কে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, হাজার হাজার মানুষ নিয়ে থানায় গিয়ে ওই আধিকারিককে বের করে আনার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। 

    তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী হুমায়ুনকে সবক শেখানোর হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বার্তা দেন। তারপরই তৎপর হয়ে হুমায়ুনের তিন অনুগামীকে পাকড়াও করল রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ।

    এর পাশাপাশি মঙ্গলবার হুমায়ুনের শক্তিপুরের বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিয়েছে পুলিশ। আগামী ৩ ও ৪ জুলাই হুমায়ুনকে  দু’টি থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। হুমায়ুন এদিন বলেন, ‘দু’টি থানা থেকে এসে নোটিস দিয়েছে। এখনও সময় আছে। ওইদিন এলে দেখব, কী করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিনি সর্বময় ক্ষমতাবান। এখন চেয়ারে বসে আছেন সবল মুখ্যমন্ত্রী। সবল মানুষ দুর্বলের উপর আক্রমণ করবে। হেনস্তা করবে, সেটা উনি হাউসে বুক চিতিয়ে বলছেন। আমাদের ভাগ্যে যা আছে হবে। আমরা মরে গেলেও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না। রেজিনগর ও শক্তিপুরের পুলিশ প্রশাসন বলছে তো, পদ্মফুল আর জোড়াফুল এক হয়েছে। আমাদের কথা শুনবে না। অন্য জায়গায় ‘জিরো টলারেন্স’ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেটা নদীয়া পর্যন্ত। মুর্শিদাবাদে এসে আর সেই নীতি নেই।
  • Link to this news (বর্তমান)