আদিবাসী উন্নয়নে একাধিক প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, ৩৫০ কোটির বিশেষ প্যাকেজ অনুষ্ঠানে ব্যাপক ভিড়
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, মুকুটমণিপুর: হুল দিবসের অনুষ্ঠানে এসে কার্যত ‘সোনার জঙ্গলমহল’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুর্বতন তৃণমূল সরকারকে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি আদিবাসী উন্নয়নের জন্য তিনি ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিলেন। আদিবাসী ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের জন্য পৃথক প্যাকেজের পাশাপাশি জামশেদপুর ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে ২০০কিলোমিটার রাস্তার মাধ্যমে জুড়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন। ওই করিডর বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলকে ছুঁয়ে যাওয়ার ফলে এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভোল পাল্টে যাবে বলে শুভেন্দুবাবু স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
এদিন বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে রাজ্যস্তরের হুল দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও জেলার দুই মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু ও দিবাকর ঘরামি সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুপুর ২টো নাগাদ হেলিকপ্টারে মুখ্যমন্ত্রী মুকুটমণিপুরে পৌঁছান। তিনি আসার আগেই অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বহু মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ শোনেন। সভাস্থলের বাইরে মুকুটমণিপুর জলাধারের বাঁধেও বহু মানুষ ভিড় জমান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদিবাসী এলাকায় বিশেষ উন্নয়নের জন্য ৩৫০ কোটির বিশেষ প্যাকেজ ক্ষুদিরামবাবুর দপ্তরকে দিয়েছি। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর আমার হাতে রয়েছে। গত তিন বছর সরকার ওই দপ্তরকে টাকা দেয়নি। ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে জঙ্গলমহলের ৭৫টি ব্লকে মাত্র ছ’কোটি টাকার কাজ হয়েছে। আমরা এবারের বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। জঙ্গলমহলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। আমরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি সাজাব। পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেব, কমিউনিটি হল বানাব। আগামী দিনে জঙ্গলমহলে একটি ভাল হাসপাতাল ও মুকুটমণিপুরকে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমূল সংস্কার হবে।
তিনি আরো বলেন, পূর্বতন সরকার আদিবাসীদের সংরক্ষণকে অগ্রহ করেছিল। তারা স্থায়ী পদে লোক নেয়নি। চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগে আদিবাসী সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হত না। এই রাজ্যে হাজার হাজার ভুয়ো এসটি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। আমাদের সরকার ভুয়ো শংসাপত্র কাণ্ডের তদন্ত করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে শংসাপত্র প্রদানকারীর সঙ্গে প্রাপককেও জেলে পাঠানো হবে। আদিবাসীদের শংসাপত্র নিয়ে দু’নম্বরি এই সরকার মানবে না।
শুভেন্দুবাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী জঙ্গলমহলে আরো ন’টি একলব্য আবাসিক স্কুল তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আগের সরকার জমি দেয়নি। তৃণমূল সরকারের বাধার কারণে তা করা যায়নি। আদিবাসী হস্টেলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য খাদ্যভাতা দেওয়া হয়। ওই ভাতা ১৮০০ টাকা বৃদ্ধি করে মোট ৩৩০০ টাকা করা হয়েছে। আগামী আগস্ট মাস থেকে বর্ধিত হার কার্যকর হবে। জয় জোহার ভাতাও ৫০০টাকা বাড়ানো হয়েছে। লোকপ্রসার শিল্পীদের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। আমরা আগামী দিনে আদিবাসীদের আরো সুযোগ-সুবিধা দেব। এবার বিধানসভা নির্বাচনে আদিবাসীরা দু’হাত তুলে আমাদের আশীর্বাদ করেছে। আমরা উন্নয়ন দিয়ে সেই ঋণ শোধ করব।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা সিধু-কানুর মূর্তি উন্মোচন করেন। শুভেন্দুবাবু বলেন, আমরা আদিবাসী-মূলবাসীদের অধিকার রক্ষার কথা বলি। আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমির লড়াই প্রতিষ্ঠিত হোক। দ্রৌপদী মুর্মুর মতো একজন আদিবাসী মহিলাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের সর্বোচ্চ আসনে বসিয়েছেন। আদিবাসীদের পাশে বসিয়ে আমরা নতুন ভারত নির্মাণ করব।