• হলদিয়ায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, ঝলসে মৃত ১
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, হলদিয়া: বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত শিল্পনগরী হলদিয়া। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হল এক বধূর। মহিলা ও শিশু সহ জখম হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। তালিকায় পেট্রকেমের তিন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। জখমদের মধ্যে অনেকেই সংকটজনক। ফলে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। মঙ্গলবার ভোররাতে হলদিয়া পেট্রকেমিক্যালসের (এইপিএল) কাঁচামাল ন্যাপথার পাইপলাইনে লিকেজের কারণেই এই অগ্নি-বিপর্যয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ন্যাপথা অতিদাহ্য হাইড্রোকার্বন। কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে আসা মাত্র তা ভয়াবহ রূপ নেয়। পাইপলাইন বরবার এক কিমি এলাকাজুড়ে লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। পুড়ে ছারখার হয়ে যায় গাছপালা। অগ্নিশিখা দ্রুত গ্রাস করে পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিল্পপ্রবেশ রেলস্টেশন সংলগ্ন বসতিকেও। ভস্মীভূত হয় ২০টির বেশি ঝুপড়ি। পেট্রকেমের তিন নিরাপত্তারক্ষীর মতো মৃত মানু বিবিও ওই বসতিতে থাকেন। মনে করা হচ্ছে, তাঁর বাড়িতেই প্রথম আগুন লাগে। সকালে তিনি রান্না চাপানো মাত্র ন্যাপথার সঙ্গে আগুনের সংযোগ ঘটে। তারপরই কুয়াশার মতো ঢেকে থাকা ন্যাপথায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 

    হলদিয়া বন্দর থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পেট্রকেমের মূল কাঁচামাল ন্যাপথা আসে কারখানায়। প্রায় ১০ ফুট গভীরে লাইন পাতা। কীভাবে সেই লাইনে ফুটো হল, তা নিয়ে ধন্দে পেট্রকেম কর্তৃপক্ষ। তবে, ক’দিন আগে ন্যাপথা বোঝাই দু’টি জাহাজ ভিড়েছে বন্দরে। সেখান থেকে খালাস করা হচ্ছিল ন্যাপথা। স্থানীয়রা বলছিলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ন্যাপথার কটূ গন্ধ নাকে লাগতেই আমরা পুলিশকে জানাই। এদিন ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ পেট্রকেম প্লান্টের বাইরে সাউথ গেটের কাছে ন্যাপথা লাইনে আগুন লাগে। এই গেটের কাছেই বাড়ি মৃত মানু বিবির।

    ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, ‘জখম ওই ২০ জনের মধ্যে দু’জন শিশু রয়েছে। আশঙ্কাজনক ছ’জনকে গ্রিন করিডর করে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)