• ‘দাপুটে’ তৃণমূল কাউন্সিলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা বারাসতজুড়ে
    বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একসময় বারাসত শহরে তাঁদের দাপটই ছিল শেষ কথা। মানুষের কোনো সমস্যা সমাধানে তাঁদের এগিয়ে আসতে না দেখা গেলেও ক্ষমতা ফলানোর একচেটিয়া অধিকার তাঁদেরই ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর এই পটভূমি আমূল বদলে গিয়েছে। এখন একের পর এক পদত্যাগ করছেন ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল কাউন্সিলাররা। বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ একাধিক কাউন্সিলারের ইস্তফার পর কাল, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের বাদবাকি প্রায় সব কাউন্সিলার পদত্যাগ করতে চলেছেন বলে খবর। ফলে পুরবোর্ড ভেঙে যাবে। এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে এখন বারাসতজুড়ে জোর চর্চা জমে উঠেছে। আম জনতার প্রশ্ন, শুধু কি একটি পুরবোর্ডের পতন নাকি এক রাজনৈতিক অধ্যায়েরও শেষ হতে চলেছে বারাসতে? এবার কি কাউন্সিলারদের দুর্নীতির ফাইল খোলা হবে? সেই প্রশ্নও উঠছে। 

    বারাসত পুরসভার ৩৫ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ৩০ জনই তৃণমূলের। নির্দল হিসাবে নির্বাচিত দু’জন পরে তৃণমূলে যোগ দেন। বাকি তিনজন বামেদের। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান তাপস দাশগুপ্ত, প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়, কাউন্সিলার পম্পি মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ নাগ চৌধুরী, দেবব্রত পাল, দীপক দাশগুপ্ত, চৈতালী ভট্টাচার্য, ডাঃ বিবর্তন সাহা, সমীর তালুকদার, পান্নালাল বসু ও প্রণব নন্দন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বাকি তৃণমূল কাউন্সিলাররা একযোগে ইস্তফা দেবেন। তার আগে আজ বাকি তৃণমূল কাউন্সিলাররা বৈঠক করতে চলেছেন। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পদত্যাগ করা কাউন্সিলাররা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুপস্থিত। অথচ বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত তাঁদের দাপটেই মানুষ তটস্থ ছিল। একের পর এক পদত্যাগের ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই দাপট আজ কোথায় গেল? বিজেপি ও বামেদের অভিযোগ, গত পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের এই কাউন্সিলাররা গায়ের জোরে জিতেছিলেন। তখন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ টুঁ শব্দ করতে সাহস পেতেন না। শুধু তাই নয়, তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে জমি দখল থেকে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ আছে। এখন পরিস্থিতি বদলাতেই দল বেঁধে পদত্যাগের পথে হাঁটছেন তাঁরা। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘নতুন সরকারকে কাজের সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে বৃহস্পতিবার যদি তৃণমূলের বাকি কাউন্সিলাররাও পদত্যাগ করলে পুরবোর্ড ভেঙে যাবে। এরপর প্রশাসকের হাতেই পুরসভার দায়িত্ব যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।’ 

    রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সেক্ষেত্রে শুধু একটি পুরবোর্ড নয়, বারাসতে দীর্ঘদিনের গাজোয়ারি রাজনীতির একটি অধ্যায়ও শেষ হতে চলেছে। সেই সঙ্গে বিজেপির ‘টার্গেটে’ থাকা কাউন্সিলারদের পরিণতি কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে আম জনতার। বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘কেউ রেহাই পাবেন না। ওঁদের ঠিকানা হবে শ্রীঘর।’
  • Link to this news (বর্তমান)