অঘটনের বিশ্বকাপে জারি ফরাসি বিপ্লব, সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় এমবাপেরা
প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্স: ৩ (এমবাপে ২, বারকোলা) সুইডেন: ০
‘ছোট’দের দাপটে হেভিওয়েটদের নাভিশ্বাস। চলতি বিশ্বকাপে এটাই যেন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ফ্রান্স বনাম সুইডেন ম্যাচেও অঘটন হবে নাকি? বিশ্বকাপে এই প্রথমবার দুই দল মুখোমুখি হল এদিন। কিন্তু অতীতে ইউরোর মঞ্চে ‘জায়ান্ট কিলার’ হয়ে ফ্রান্সকে হারিয়েছে সুইডেন। এবার অঘটনের বিশ্বকাপেও তেমনটা হতে পারত। যদিও সেটার ন্যূনতম সুযোগটুকু দেননি কিলিয়ান এমবাপেরা। ম্যাচে আগাগোড়া দাপট বজায় রেখে শেষ ষোলোয় উঠে গেল ফ্রান্স।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট জুড়ে কার্যত একতরফাভাবেই খেললেন আদ্রিয়ান র্যাবিওরা। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফরাসি ব্রিগেডের গোল রুখে দেওয়াটাই সুইডেনের বড় কৃতিত্ব, একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে। অন্তত নিশ্চিত তিনটি শট বাঁচিয়েছেন সুইডিশ গোলকিপার উইডেল জেটারস্ট্রম। বারপোস্টও বেশ কয়েকবার সুইডেনের সহায় হয়েছে। এমবাপে, মাইকেল ওলিসদের শট আছড়ে পড়েছে পোস্টে। তার মধ্যেও অবশ্য বারকয়েক জ্বলে উঠেছে সুইডেন। বল নিয়ে ফরাসি বক্স পর্যন্ত পৌঁছলেও লাভ হয়নি। বরং ফরাসি আক্রমণের ঝাঁজ আরও বেড়েছে তার পর থেকে।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে অবশেষে কাটল ফ্রান্সের গোলখরা। ৪৫ মিনিটে দলকে এগিয়ে দিলেন এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটা তাঁর পঞ্চম গোল। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার সর্বকালীন ইতিহাসে টপকে গেলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরাস্লোভ ক্লোসেকে। ফরাসি তারকার সামনে এখন বাকি স্রেফ লিওনেল মেসির রেকর্ড। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বাধিক গোল করার নজিরও গড়ে ফেললেন। নকআউট পর্বে ফরাসি অধিনায়কের পা থেকে এসেছে ৯টি গোল। এমবাপের গোলের ঠিক পরেই সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল সুইডিশ বাহিনীর সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ হয়নি।
বিরতির পরের ফ্রান্স যে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে, আরও গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবেন উসমান ডেম্বেলেরা-সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সুইডেন ম্যাচের আগে পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে ১০ টি গোল করেছে ফরাসি ব্রিগেড। তার মধ্যে ৬টাই এসেছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। সেই ধারা সুইডিশদের বিরুদ্ধেও বজায় রাখলেন ব্র্যাডলি বারকোলারা। ৫২ মিনিটে এল ম্যাচের দ্বিতীয় গোল।
২ গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছেড়ে দেয়নি সুইডেন। বরং গোল রুখে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে গোটা দল। রক্ষণে আটকে গিয়েছে ডেম্বেলেদের বেশ কয়েকটা সুযোগ। একাধিক সেভ করেছেন জেটারস্ট্রম। তবে বিপক্ষকে মাত দিতে অভ্যস্ত এমবাপে তার মধ্যেও ঠিক সুযোগ খুঁজে নিলেন। ওলিসের পাসে পা ছুঁইয়ে অনবদ্য গোল ৭৪ মিনিটে। তবে যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এদিন হ্যাটট্রিক এল না রিয়াল মাদ্রিদ তারকার। ৮৩ মিনিটে তাঁকে তুলে নিলেন দিদিয়ের দেশঁ।
বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করা নজিরও এদিন গড়ে ফেলল ফ্রান্স। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে এমবাপের হ্যাটট্রিক থেকে শুরু হয়ে চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব-প্রত্যেক ম্যাচেই অন্তত তিনটি গোল করেছে ফ্রান্স। নকআউটেও সেই ধারা বজায় রইল। এবার শেষ ষোলোয় এমবাপেদের প্রতিপক্ষ জার্মানিকে ছিটকে দেওয়া প্যারাগুয়ে।