মাথার উপর ঝুলছে তার কোথাও ছড়িয়ে রয়েছে রাস্তায় ঝড়বৃষ্টিতে সল্টলেকে মারণ ফাঁদ কেবল লাইন
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: একে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। রাস্তা পিছল। একটু অসাবধান হলেই বিপদ। কারণ, ভেজা রাস্তার উপরে পাতা রয়েছে মারণ ফাঁদ। কোথাও আবার ডিভাইডার থেকে গাছের ডাল হয়ে ঝুলছে ‘ফাঁস’। সল্টলেকের একাধিক রাস্তায় এভাবেই বিপজ্জনকভাবে ছড়িয়ে রয়েছে কেবল লাইনের তার। যাঁরা বাইক নিয়ে যাতায়াত করছেন, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। যে কোনো সময় সেই কেবলে জড়িয়ে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সমস্যা অনেকদিন ধরেই চলছে। এর আগে একাধিকবার পুরসভায় জানানো হয়েছিল। কিন্তু, ফল হয়নি। ঝড়বৃষ্টি হলে বেশি পরিমাণে তার রাস্তায় চলে আসে। ফলে, বর্ষার সময় বিপদ বেশি।
সল্টলেকে দু’দিকের রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডারে কেবলের জট। তবে, ডিভাইডারে থাকলে মানুষের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, ঝড়বৃষ্টি হলেই সেই তারের জঞ্জাল রাস্তায় ঝুলে পড়ে। নজরে এলে কখনও কখনও পুলিশ বা পথচারীরা সরিয়ে দেন। কিন্তু, অনেকে বিদ্যুতের তার ভেবে হাত দিতেও ভয় পান। ফলে, সেই কেবল রাস্তাতেই পড়ে থাকে। মঙ্গলবার বিধাননগর পুরসভা ভবনের উলটোদিকে দেখা গেল, ডিভাইডারের মাঝখান থেকে তার খুলে রাস্তার উপর এসে পড়েছে। আরও অনেক জায়গায় একই অবস্থা। দিনের বেলায় ওই তার দেখা গেলেও সমস্যা বাড়ে সন্ধ্যার পর। কারণ, কেবলের রং কালো। সহজে চোখে পড়ে না। বৃষ্টি হলে জলে চাপাও পড়ে যায়। তাতে বিপদ আরও বাড়ে।
এক বাইক আরোহী বললেন, কিছুদিন আগেই আমার বাইকের চাকায় তার জড়িয়ে গিয়েছিল। পিছনে স্ত্রী ও বাচ্চা ছিল। পড়ে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছি। ভাবতেও পারিনি, রাস্তায় এভাবে ফাঁদ পাতা থাকবে।
প্রসঙ্গত, বছর খানেক আগে এই তারে জড়িয়ে একটি দুর্ঘটনাও ঘটেছিল। একজন জখম হয়েছিলেন। তারপর পুরসভার পক্ষ থেকে কেবল লাইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছিল। যে সব তার বিপজ্জনকভাবে ঝুলছে, বা পড়ে রয়েছে সেগুলি ঠিক করতে বলা হয়েছিল। সেই সময় কিছুটা কাজ হয়েছিল। পরে আবার একই অবস্থা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে কিছু জায়গায় কেবল লাইন ঠিক করা হয়েছে। মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য বাকি জায়গাতেও ঠিক করে দেওয়া হবে।