জলমগ্ন দশা কাটাতে গালিপিট সাফাই, বসানো হল ৭টি পাম্প
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ভারী হোক বা মাঝারি, বৃষ্টি হলেই রাস্তা চেনা দায়! যেন বয়ে চলা নদী! বর্ষার সময় দুর্ভোগ চরমে ওঠে। কোমর পর্যন্ত জল জমে যায় রাস্তায়। ভিআইপি রোডের হলদিরাম ক্রসিংয়ের জলমগ্ন দশায় চরম দুর্ভোগের শিকার হন অসংখ্য মানুষ। তৃণমূল সরকারের আমলের চেনা দুর্ভোগ কেন বিজেপি সরকারের আমলেও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তাই হলদিরামের নিকাশির হাল ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে বিধাননগর পুরসভা, পূর্তদপ্তর, কেএমডিএ, এমনকি দমকল বিভাগও। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ওই এলাকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে সমস্ত গালিপিট সাফাই করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাতটি অস্থায়ী পাম্প বসানো হয়েছে। ফলে সমস্যা অনেকটাই লাঘব হয়েছে। মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে ফল মিলেছে হাতেনাতে। হলদিরাম ক্রসিংয়ে জল জমলেও আগের চেয়ে দ্রুত নেমে গিয়েছে।
কৈখালি ট্রাফিক গার্ড সংলগ্ন ভিআইপি রোডের হলদিরাম সিগন্যাল শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কলকাতা শহরের সঙ্গে বিমানবন্দরের যোগাযোগের জন্য তো বটেই, সেই সঙ্গে চিনারপার্ক হয়ে নিউটাউনের দিকে যাতায়াতের জন্যও এই ক্রসিং গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাস্তায় গাড়িঘোড়ার চাপও বেশি। ট্রাফিক সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। বৃষ্টি হলেও ভিআইপি রোডের উপরে জল জমে। সবচেয়ে বেশি জল জমে ভিআইপি রোডের দু’ধারে সার্ভিস রোডে। প্রায় কোমর সমান। যে কোনো সময় বিপদও ঘটতে পারে।
বিজেপির সরকার গঠন হওয়ার পরই পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ওই অঞ্চল পরিদর্শন করেছিলেন। সূত্রের খবর, মাটির নীচে নিকাশি পাইপে কিছু রদবদল করতে হবে। কারণ, যে পরিমাণ জল ওই অঞ্চলে এসে পড়ে, ততটা জল একসঙ্গে বেরতে পারে না। তাই পরিকাঠামোর উন্নয়ন দরকার। চলতি বর্ষার মধ্যেই কীভাবে জমা জলের সমস্যা মেটানো যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন।
সেগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, তা সরেজমিনে সার্ভে করা হয়েছে। প্রতিটি গালিপিট সাফাই করা হয়েছে। যাতে রাস্তার উপরের জল ড্রেনে ঢুকে যায়। আগে প্লাস্টিক, আবর্জনায় গালিপিট অবরুদ্ধ থাকার কারণেও জল জমত। সেই সঙ্গে পাম্প বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার পূর্তদপ্তর, কেএমডিএ, দমকল দপ্তর মিলিয়ে সাতটি পাম্প বসিয়েছে। পাম্পে জল তুলে তা ফেলা হচ্ছে বেশ কিছুটা দূরের আউটলেটে। ফলে দিনভর বৃষ্টি চললেও ভিআইপি রোডে জল জমেনি সেভাবে। দ্রুত জল নেমেছে সার্ভিস রোড থেকেও।- নিজস্ব চিত্র