এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ অপরূপার স্বামী সাকির
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও কলকাতা: হুগলির রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ। মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিরাট কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তাঁরা এলাকায় আসে। বিকালে সাকিরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় তারা। উল্লেখ্য, সাকিরের স্ত্রী অপরূপা পোদ্দার হুগলির আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে রামনবমীর সময়ে রিষড়ায় গণ্ডগোল হয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ চলেছিল। ওই সময় তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলার সাকির আলির বিরুদ্ধে চন্দননগর কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তিন বছর পর সেই মামলায় ময়দানে নামল এনআইএ।
এদিন, সাকিরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়াতেই এলাকায় বহু মানুষ জমায়েত হয়। তাঁরা সাকিরের গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় পুলিশ সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আরও জওয়ানদের এলাকায় মোতায়েন করা হয়। শেষপর্যন্ত বিকালে ধৃতকে নিয়ে এলাকা ছাড়েন এনআইএ’র ছয় আধিকারিক। এনআইএ’র আধিকারিকরা নাগরিক বিক্ষোভের সামনে পড়লেও পরিস্থিতি সামাল দিতে দেখা গিয়েছে অপরূপা পোদ্দারকে। প্রায় দশ ঘণ্টার জেরা পর্বে তিনি স্বামীর সঙ্গেই ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধাদানের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই শ্রীরামপুর থানায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুলিশ তাঁকে তলব করেছে।
এদিন তাঁর ছেলে উত্তেজিত অবস্থায় সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিতে চাইলেও তিনি ছেলের মুখে চাপা দেন। নিজেও বিশেষ কথা বলতে চাননি। তবে বলেন, ভগবান সব কিছু দেখছেন। তিনিই বিচার করবেন। আমরা আইনের পথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করব। এনআইএ কর্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে রামনবমীকে কেন্দ্র করে যে গোষ্ঠীবিবাদ হয়েছিল, তাতে মূল অভিযুক্ত ছিলেন সাকির। বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসা, একটি গোষ্ঠীর উপরে হামলা পরিচালনা করার নীল-নকশা তিনিই তৈরি করেছিলেন। এমনকি, ঘটনার পরে অভিযুক্তদের পালাতে এবং লুকিয়ে রাখতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেই সমস্ত তথ্য ফোন কলের রেকর্ড এবং এসএমএস থেকে প্রমাণিত হয়েছে। তারপরেই সাকিরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন এনআইএ তদন্তকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত কোনো প্রশ্নেরই সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে সাকিরের বয়ানের প্রচুর অমিল রয়েছে। ২০২৩ সালে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে রিষড়ার বড়ো মসজিদ এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। বেশ কয়েকদিন ধরেই সেখানে অশান্তির পরিবেশ ছিল। বিরাট পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি তৃণমূলের তদানীন্তন জনপ্রতিনিধিদের একাংশ শান্তিরক্ষায় পথে নেমেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় সংঘাতে যুক্ত একটি গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকির। সে বিষয়ে থানায় অভিযোগ হলেও প্রভাবশালী সাকিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারপরেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশেই তদন্তভার হাতে পায় এনআইএ। -নিজস্ব চিত্র