জোড়া গোলে মেসিকে ছুঁলেন এমবাপে, দাপুটে ফুটবলে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স
আজকাল | ০১ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডালাসে আবার ফরাসি বিপ্লব। দুর্ধর্ষ ফুটবল। জোড়া গোল কিলিয়ান এমবাপের। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ছুঁয়ে ফেললেন লিওনেল মেসিকে। দু'জনেরই ৬ গোল। গোল সংখ্যা এক হলেও, অ্যাসিস্টের জন্য আর্জেন্টাইন তারকাকে পেরিয়ে গেলেন এমবাপে। বিশ্বকাপের নিরিখে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে ফরাসি তারকা। মেসির গোল সংখ্যা ১৯, এমবাপের ১৮। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় ভোর রাতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারাল ফ্রান্স। গোল সংখ্যা দশ বা তারও বেশি হতে পারত। চ্যাম্পিয়নদের মতো ফুটবল লে ব্লুজদের। কেন ফ্রান্স অন্যতম ফেভারিট, আরও একবার প্রমাণিত হল। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম দল হিসেবে পাঁচ ম্যাচে তিন বা তারও বেশি গোলের নজির গড়লেন দিদিয়ের দেশঁর দল। তবে এদিন ম্যাচের আসল নায়ক মাইকেল অলিসে। গোটা মাঠ জুড়ে খেলেন। গোলের একাধিক পাস বাড়ান। ভাগ্য সহায় থাকলে নিজেও হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। তবে এমবাপের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঝকঝকে ফুটবল উপহার দিলেন অলিসে।
প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইম সবে শুরু হবে। ডেম্বেলের পাস থেকে বক্সের মধ্যে সুইডেনের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে, তিনজনের নাকের ডগা দিয়ে ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে গোল এমবাপের। চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চম, সার্বিকভাবে ১৭তম। তবে পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে যায় অনুভূতি। গোল করেই ফরাসি তারকা ছুটে যান কোচ দিদিয়ের দেশঁর কাছে। জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। সদ্য মাতৃভিয়োগ ঘটেছে ফ্রান্সের কোচের। এদিন নিজের প্রথম গোল দেশঁকে উৎসর্গ করেন কিলিয়ান। ম্যাচের সেরা মুহূর্ত। শুধু পায়ের জাদুতেই নয়, মাঠের বাইরে এই অনুভূতিতে মন জয় করে নেন কিলিয়ান। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় ভোর রাতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্স।
এদিন সামনে একা এমবাপেকে রেখে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজান দেশঁ। ম্যাচের শুরু থেকেই ঝড় তোলে ফ্রান্স। ডেম্বেলে, অলিসে এবং এমবাপের ত্রিভুজ আক্রমণে নাজেহাল হয়ে যায় সুইডেনের রক্ষণ। কিন্তু শুরুতে ফিনিশিংয়ের অভাব। প্রথমার্ধে গোল লক্ষ্য করে ১৫টি শট নেয় ফরাসিরা। কিন্তু তরুণ সুইডিশ গোলকিপারকে পরাস্ত করতে প্রায় প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ফ্রান্সকে। যদিও অসংখ্য সুযোগ এসেছিল। ম্যাচের ২০ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় গোল। মাঝমাঠে থ্রু বল পান ফরাসি স্ট্রাইকার। একক দক্ষতায় গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে গোলকিপারকে কাটিয়ে নিখুঁত প্লেসিং। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান।
ঝড়ের গতিতে সুইডেনের রক্ষণে একের পর এক হানা ফরাসিদের। বিরতিতে ফ্রান্স ৫-০ গোলে এগিয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার সুযোগ। এবার এমবাপের শট পোস্টে লেগে। খেলার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন এমবাপে। এদিন অনবদ্য অলিসে। প্রচুর ওয়ার্কলোড নিয়ে খেলেন। একইসঙ্গে একের পর এক গোলে শট। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। ম্যাচের ৩২ মিনিটে আবার সুযোগ পায় ফ্রান্স। এবার অলিসের বাইসাইকেল কিক পোস্টে লাগে। উসমান ডেম্বেলের ফিরতি শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
প্রথম আধ ঘণ্টায় জোড়া গোলের সুযোগ হারানোয় একটা সময় হতাশ দেখায় এমবাপেকে। বার দুয়েক বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। কিন্তু কোনও বিপদের সৃষ্টি হয়নি। বিরতির ঠিক আগে অলিসের শট বাঁচান সুইডেনের গোলকিপার। কিন্তু বেশিক্ষণ দলকে বিপদমুক্ত রাখতে পারেননি। এক মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল তুলে নেন এমবাপে। সার্বিকভাবে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের থেকে দু'গোলে পিছিয়ে ছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে দু'জনের মধ্যে মাত্র এক গোলের পার্থক্য ছিল। মেসির ৬ গোল। এমবাপের ৫। অবশ্য বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেননি। এই ম্যাচেই মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেন। খেলার ৭৪ মিনিটে ৩-০। অলিসের থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে নিখুঁত প্লেসিং এমবাপের। ছুঁয়ে ফেলেন মেসিকে। চলতি বিশ্বকাপে দু'জনেরই গোল সংখ্যা ৬।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে মোট পাঁচ অ্যাসিস্ট অলিসের। এবারের ফ্রান্স দল পরিপূর্ণ। প্রত্যেক ম্যাচে বদলে যাচ্ছে নায়ক। এমবাপে রয়েছেন। এছাড়াও ডেম্বেলে, অলিসেরা দুরন্ত ফর্মে আছেন। এদিন ম্যাচের ৫২ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন বারকোলা। এবারও সেই অলিসের পাস থেকে। এদিন স্কোরশিটে নাম থাকা উচিত ছিল তাঁর। একাধিক গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়ানোর পাশাপাশি গোল লক্ষ্য করে শটও নেন অলিসে। কিন্তু গোল পাননি। তবে ম্যাচের রিংমাস্টার ছিলেন তিনিই। বেশ কয়েকবার অলিসের শট বাঁচান সুইডেনের গোলকিপার জেকব জেটারস্ট্রম। নয়ত গোলের মালা পরতে হত সুইডেনকে। পুরোপুরি একপেশে ম্যাচ। কোনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি ফ্রান্সের গোলকিপারকে। আগেরবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারে দেশঁর দল। কিন্তু এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফরাসিরা। শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের মুখোমুখি এমবাপেরা।