এই সময়: ইন্টারনেট ঘেঁটে বা এআই–এর পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই তৈরি হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক কালে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। অনেক সময়েই ভুল চিকিৎসা বা ওষুধের ফলে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু তা বলে ইউটিউব দেখে অন্তঃসত্ত্বার প্রসব? এমনই একটা দুঃসাহসিক ঘটনার সাক্ষী তামিলনাড়ু। শ্বশুরবাড়ির লোকের এই বোকামির মাশুল গুণতে হলো ৩২ বছরের প্রসূতিকে। ভূমিষ্ঠ শিশু সুস্থ থাকলেও প্রসবের পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রাণ গেল মায়ের।
ঘটনাটি তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর। সূত্রের খবর, শশীকলা ও কোলান্থাসামির আগের একটি সন্তান রয়েছে। ২০২০ সালে প্রথম বারের গর্ভাবস্থায় সি–সেকশন ডেলিভারি হয়েছিল শশীকলার। কিন্তু তার পর কোমর ব্যথা–সহ নানা শারীরিক সমস্যায় তাঁকে ভুগতে হয়েছে বলে দাবি। তাই দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরে আর অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার দিকে যাননি তিনি। গ্রামে সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও গর্ভাবস্থায় একবারও চেকআপ করাননি। গত ২৩ জুন রাত ৯.১৫ নাগাদ শশীকলার প্রসব বেদনা ওঠে। সূত্রের খবর, সেই সময়ে স্বামী কোলান্থাসামির সাহায্য নিয়ে ইউটিউব দেখে নিজেই নর্ম্যাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন শশীকলা। কোনও চিকিৎসক, নার্স এমনকী গ্রামের কোনও ধাই মা–র সাহায্যও নেননি তাঁরা। ভোর ৫.৪২ নাগাদ সন্তানের জন্ম দেন শশীকলা, কিন্তু আনাড়ি হাতে সন্তানের নাড়ি ঠিকমতো কাটতে পারেননি কোলান্থাসামি, ফলে শশীকলার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গ্রামের সরকারি হাসপাতালে শশীকলাকে নিয়ে যান কোলান্থাসামি। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কোয়েম্বাটোরের একটি মাল্টি–স্পেশালিটি হাসপাতালের আইসিইউ–তে তাঁকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এত চেষ্টাতেও বাঁচানো যায়নি শশীকলাকে। রবিবার রাতে হাসপাতালেই প্রাণ হারান তিনি। শশীকলার বাপের বাড়ির তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের না হলেও কোলান্থাসামির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর রাস্তোগির কথায়, ‘মানুষের অনলাইন নির্ভরতা এতটাই বেড়েছে যে লোকে ভাবছে ভিডিয়ো দেখে অস্ত্রোপচারও করে ফেলতে পারবে! এই প্রবণতাই ডেকে আনছে বিপদ। নর্ম্যাল ডেলিভারির প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়লেও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তা না হলে যে কোনও সময়ে বিপদের ঝুঁকি থাকে।’