• বান্ধবীকে ‘উত্যক্ত’ করায় কিশোর এবং তার বাবা খুনের অভিযোগ, পুলিশের জালে দুই নাবালক
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • বান্ধবীকে ‘উত্যক্ত’ করেছিল এক কিশোর। এরই ‘প্রতিশোধ’ নিতে ওই কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু ওই কিশোরকেই নয়, তাঁর বাবাকেও খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ উঠেছে ভুবনেশ্বরে দুই স্কুল পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে দুই নাবালককেই আটক করেছে পুলিশ। এই নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

    পুলিশ সূত্রে খবর,নিহত কিশোরের নাম কৃষ্ণপ্রসাদ পাধি। খণ্ডগিরি থানা এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে পড়ার সময় এক ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ওই মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল সে। কিন্তু মেয়েটি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৬ ও ১৭ বছর বয়সি ওই দুই স্কুল ছাত্রও একই কোচিং সেন্টারের পড়ত। কৃষ্ণপ্রসাদ এবং ওই মেয়েটি,উভয়ের সঙ্গেই তাদের ভালো পরিচয় ছিল। কিন্তু ওই ছাত্রীকে ‘উত্যক্ত’ করেছিল কৃষ্ণ বলে দাবি তাদের। এই ‘উত্যক্ত’ করার বদলা নিতেই এই হত্যাকাণ্ড। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া এবং অন্যজন দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছে।

    ভুবনেশ্বরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জগমোহন মিনা জানিয়েছেন, হামলার আগের দুই-তিন মাস ধরে কৃষ্ণপ্রসাদ পাধি মেয়েটিকে উত্যক্ত করছিল। তার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য ওই মেয়েটিকে চাপ দিচ্ছিল বলেও জানা গিয়েছে। এই কারণেই ওই নাবালকের কাছে সাহায্য চেয়েছিল সে।

    জানা গিয়েছে,মেয়েটির অনুরোধে, হত্যার প্রায় ২৫ দিন আগে খণ্ডগিরি (Khandagiri) এলাকার একটি পার্কে কৃষ্ণপ্রসাদের সঙ্গে দেখা করে তারা। তাকে মেয়েটিকে উত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকার কথাও বলে। এই অনুরোধ শোনার বদলে কৃষ্ণপ্রসাদ ওই দুই নাবালকের ওপরই হামলা চালায় এবং তাদের হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ। এর পরেই তাকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওই দুই নাবালক।

    পুলিশ সূত্রে খবর, সেই পরিকল্পনা মাফিক গত ২৮ জুন রাতে একটি লোহার রড এবং লঙ্কাগুঁড়ো নিয়ে কৃষ্ণপ্রসাদের বাড়ির বাড়ির সীমানা পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢোকে। ওই দু’জন জোর করে বাড়ির দরজা খুলে ফেলে এবং কৃষ্ণকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে। সেই সময়ে তার বাবা হিমাংশু পাধি ও বোন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। ভুবনেশ্বর AIIMS হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই কৃষ্ণপ্রসাদকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে মৃত্যু হয় তার বাবারও। কৃষ্ণপ্রসাদের বোন এখনও চিকিৎসাধীন।

    মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে,ওই পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খণ্ডগিরি থানায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্ত এবং CCTV ফুটেজের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের সনাক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)