• স্কুল–শিক্ষকদেরও সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিবেচনার ইঙ্গিত শমীকের
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকাদেরও সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। শাসকদল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন। এতে শিক্ষক–শিক্ষিকারা অর্থনৈতিক ভাবে খুব বেশি লাভবান হবেন, বিষয়টি তেমন যদিও নয়। তবে চাকরির নিরাপত্তা বাড়বে।

    পালাবদলের পরে ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এ দিন বিজেপির শিক্ষক সেলের অনুষ্ঠানে শমীক বলেন, ‘দেশের অন্য অনেক রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকাদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে ফিট করানো যায় কি না, তা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। তবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হবে ক্যাবিনেটে। সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভা।’ শমীক জানান, যে–সব রাজ্যে বিজেপির সরকার আছে, সেখানে স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা সরকারি কর্মচারী হিসেবেই স্বীকৃতি পান।

    ঘটনা হলো, এ রাজ্যে তিন ধরনের সরকারি স্কুল রয়েছে—সরকারি, সরকার–পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত। হিন্দু, হেয়ার, সংস্কৃত, বেথুন কলেজিয়েট, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট এবং জিলা স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারাই শুধু সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা পান। সরকার–পোষিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা তা পান না। সরকারি স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমেরও আওতাভুক্ত। সাহায্যপ্রাপ্ত ও স্পনসর্ড স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকাদের এতদিন ভরসা বলতে ছিল শুধু স্বাস্থ্যসাথী। সরকারি স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা চাকরি জীবনে ৮–১৬–২৫ বছরে তিনটি ইনক্রিমেন্ট পান। সঙ্গে পরবর্তী উচ্চতর বেতনহারও পান। কিন্তু সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা চাকরিজীবনে দু’বার মাত্র—১০ ও ২০ বছরে দু’টি ইনক্রিমেন্ট পান। চাকরিজীবনে উচ্চতর বেতনহারের সুযোগও তাঁদের থাকে না।

    পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে ৫০ হাজার সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রাথমিক স্কুলে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষক–শিক্ষিকা কর্মরত। জুনিয়র হাই, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে ১৪ হাজারের বেশি স্কুলে আরও অন্তত দেড় লাখ শিক্ষক–শিক্ষিকা রয়েছেন। শমীক বলেন, ‘বাম সরকার ৩৪ বছর টিকে ছিল শিক্ষক–শিক্ষিকাদের জন্যেই। ওদের সংগঠনের মূল চাবিকাঠিই ছিলেন শিক্ষক–শিক্ষিকারা। ওরা শিক্ষকদের বেতন বাড়িয়েছিল। জীবনমানে উন্নতিও করেছিল। কিন্তু বিগত তৃণমূল সরকার কর্মচারী, শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নানা রকম চুরি ঢাকতে মানুষের করের টাকা দামি ব্যারিস্টারদের ভাড়ায় খরচ করেছে।’

    স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে শমীকের আবেদন, ‘বিগত সরকার চুরি বাঁচাতে উকিলদের পিছনে কত টাকা খরচ করেছিল, আপনি একটু দায়িত্ব নিয়ে সে ব্যাপারে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন।’ বিজেপির শিক্ষক সেলের জমায়েতকে উদ্দেশ করে শমীক বলেন, ‘কোনও সরকারি পদক্ষেপ আপনাদের চলার পথের পরিপন্থী হলে, তা আপনারা প্রকাশ্যে বলবেন না। দয়া করে দপ্তরে এসে যিনি দায়িত্বে আছেন, তাঁকে বলুন। বিজেপির শিক্ষক সেলের নিজস্ব দাবিদাওয়া ও বক্তব্য থাকবেই। কিন্তু আপনাদের সামাজিক দায়িত্বও রয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)